ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দিনাজপুরে মাদক ব্যবসায়ীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। গত দুই দিনে সাত মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
অপরদিকে মাদক বহনকারী পিকআপের ধাক্কায় একজন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় দিনাজপুরের সাধারণ মানুষ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে।
জানা গেছে, ৩০ এপ্রিল রাতে ১৪৩৮ পিস ইয়াবাসহ তিন কারবারিকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ।
গ্রেফতাররা হলেন, দিনাজপুর শহরের রামনগর পাগলা মোড়ের মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে বেলাল হোসেন ওরফে বাবু (৪৯), ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানার কাজলার পাড়া এলাকার লাল মিয়ার ছেলে মনজু হোসেন (৩২) ও দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের পুনেন্দ্র চন্দ্র রায়ের ছেলে বিষ্ণু চন্দ্র রায় (২৯)।
দিনাজপুরের পুলিশ সুপার কার্যালয়েরে সম্মেলন কক্ষে শনিবার (১ মে) দুপুর ১২টার সময় প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মমিনুল করিম এ তথ্য জানান।
শনিবার গভীর রাতে উপজেলার হাবিবপুর হরেকৃষ্টপুর বাজার এলাকা অভিযান চালিয়ে বিরামপুর থানা পুলিশ পূর্ব জগন্নাথপুর এলাকার আরিফুল ইসলামের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম এবং আব্দুল কাদেরের স্ত্রী দুলালী বেগমকে ১২ বোতল ফেনসিডিলসহ গ্রেফতার করেন।
একই দিন ঘোড়াঘাটে ১৩৫ বোতল ফেনসিডিলসহ ভুয়া সাংবাদিক দম্পত্তিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতার ওই দম্পত্তি হলো, হাকিমপুর (হিলি) উপজেলার দক্ষিণ বাসুদেবপুর ভীমপুর গ্রামের মৃত লিয়াকত আলীর ছেলে মুন্না আলী বিহারী শামিম (৪৩) এবং তার স্ত্রী ভুয়া সাংবাদিক পরিচয়দানকারী শাপলা বেগম ওরফে সাংবাদিক সৃষ্টি চৌধুরী (৩৪)।
ঘোড়াঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজিম উদ্দিন বলেন, তারা সাংবাদিক পরিচয়ে দীর্ঘদিন থেকে মাদক ব্যবসা করে আসছে। গ্রেফতার কথিত সাংবাদিক শাপলা বেগমের নামে জয়পুরহাটে মাদকের দুটি মামলাসহ মোট তিনটি মামলা রয়েছে। তার স্বামীর বিরুদ্ধেও বিভিন্ন থানায় দুটি মাদক মামলা রয়েছে।
শাপলা বেগম নিজেকে দৈনিক সরেজমিন বার্তা, হাওর বার্তা এবং সত্যের বাণী পত্রিকার সাংবাদিক বলে পরিচয় দেয়।
এদিকে রোববার দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে ফেনসিডিলবাহী পিকআপ ও ব্যাটারি চালিত ভ্যানের মখোমুখি সংর্ঘষে ভ্যান চালক নিহত হয়েছে।
নিহত ভ্যানচালকের নাম সফিকুল ইসলাম(৩৫)। তিনি নবাবগঞ্জ উপজেলার ৮নং মামুদপুর ইউনিয়নের আম বাগান গ্রামের মোহাম্মদ আলী সুরুজের ছেলে।
দুর্ঘটনা কবলিত পিকআপ থেকে পুলিশ ৯০ বোতল ফেনসিডিল জব্দ করেছে।
এ ব্যাপরে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি সিপিবি দিনাজপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. বদিউজ্জামান উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, দিনাজপুরে যে মাদক আসে তা প্রতিবেশি দেশের সীমান্ত দিয়ে বিজিবি এবং বিএসএফের সহায়তায়। অন্যান্য মালামাল না আসলেও ফেননসিডিল ঠিকই আসে।
তিনি আরও বলেন, যুব সমাজ নিয়ে আমরা চরমভাবে উদ্বিগ্ন। মাদকের কারণে অনেক পরিবার ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। ভাঙছে সংসার। এ মুহূর্তে দেশে মাদক আসে এমন রুটগুলো বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় আমাদের ভবিষৎ প্রজন্ম মেধাশূন্য হয়ে পড়বে।
ঘোড়াঘাট পৌর নাগরিক কমিটির সভাপতি এবং কে জি পাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. আনিসুর রহমান বলেন, ঈদসহ যে কোনো উৎসবকে সামনে রেখে মাদক ব্যবসায়ীরা তৎপর হয়ে ওঠে। আইন শৃংখলা বাহিনীর তৎপরতায় অনেক কারবারি ধরা পড়ছে। মাদক জব্দ করা হচ্ছে। তবে সীমান্ত পাহারা আরও জোরদার করতে হবে। তা না হলে যুব সমাজ শেষ হয়ে যাবে।
এক প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মমিনুল করিম বলেন, ঈদকে সামনে রেখে মজুদ গড়ার লক্ষ্যে মাদকের চালান দিনাজপুরে আনা হচ্ছে। তবে কোনোভাবেই মাদক ব্যবসায়ীরা দিনাজপুরে চালান নিয়ে ঢুকে রক্ষা পাবে না। আমাদের সদস্যরা প্রস্তুত রয়েছে।
এমদাদুল হক মিলন/এএইচ/জেআইএম