ঠাকুরগাঁও জেলা শহরের মুন্সিরহাটের দুলালের কিশোরী মেয়ে মলি (১৪)। জন্ম থেকেই সে বাক ও শারীরিক প্রতিবন্ধী। মা-বাবার অনুপস্থিতিতে সারাদিন মেয়েটি মাটিতে বসে থাকে। মাটি ঘেঁষেই চলাফেরা করতে হয় তাকে।
দিনমজুর বাবার আয়ে সংসার চালানো কষ্ট হয়ে যায়। তাই মলির মা অন্যের বাড়িতে কাজ করেন। কিন্তু অর্থের অভাবে মেয়ের জন্য একটি হুইল চেয়ারও কিনতে পারেননি তারা।
এমন অসহায়ত্বের কথা জেনে মাহাবুব আলম সোহাগ নামে এক ব্যক্তি প্রতিবন্ধী মলির জন্য একটি হুইল চেয়ার কিনে পাঠান। হুইল চেয়ার পেয়ে মেয়েটির মুখে ফুটে ওঠে পূর্ণতা পাওয়া চমৎকার এক হাসি।
মলির প্রতিবেশী তাজিম মুন বলেন, ‘সবসময় এভাবে মাটিতে বসে থাকতে দেখতাম মেয়েটিকে। বিষয়টি আমি এক বড়ভাই মাহাবুব আলম সোহাগকে জানাই। তার দেয়া একটি হুইল চেয়ার মেয়েটির কাছে আমরা পৌঁছে দেই।’
জেলায় প্রতিনিয়ত বিভিন্ন এতিমখানাসহ অসহায়দের সহযোগিতায় এগিয়ে আসা মাহাবুব আলম সোহাগ জানান, ‘সামান্য একটা হুইল চেয়ার দিয়ে মেয়েটির এত সুন্দর একটি হাসি উপহার পাওয়া যাবে ভাবতে পারিনি। তার হাসিটা হৃদয় ছুঁয়ে দিয়েছে আমার। আমার মাধ্যমে অনেকের কাছে সাহায্য পৌঁছেছে। তবে এমন তৃপ্তির হাসি দেখিনি কারও মুখে।’
তিনি আরও বলেন, ‘রমজানে বিভিন্নভাবে প্রায় লাখ টাকার পণ্য সামগ্রী দেয়া হয়েছে অনেককে। কারও আচরণ ছিল এমন যে, তিনি তার পাওনা সম্পত্তি বুঝে নিচ্ছেন। একমাত্র এই মেয়েটি প্রকৃত খুশিটা প্রকাশ করেছে। সেটা দেখে আমার কাজের আগ্রহ বেড়েছে ও ক্লান্তি দূর হয়ে-ছে।’
তানভীর হাসান তানু/এসজে/জেআইএম