দেশজুড়ে

বিধিলঙ্ঘন করে কলেজের সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, বন্ধ করলো প্রশাসন

ফরিদপুর সরকারি রাজেন্দ্র কলেজে সরকারি বিধিলঙ্ঘন করে একটি ক্যাম্পাসের কার্যাদেশ নিয়ে অন্য ক্যাম্পাসের কাজ করার অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর জোর আপত্তি আর অভিযোগের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক সীমানা প্রাচীর নির্মাণ বন্ধ করেছে প্রশাসন।

মঙ্গলবার (৪ মে) ফরিদপুর সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুহাম্মদ আল আমিন এ নির্মাণকাজ বন্ধ করেন।

জানা যায়, কলেজটির দুইটি ক্যাম্পাস। তার মধ্যে অর্নাস ও মাস্টার্স শাখাটি শহরের বাইরে বায়তুল আমান ও অন্যটি ডিগ্রি শাখা শহরের ঝিলটুলি এলাকায় অবস্থিত। সম্প্রতি শহরের বাইরে বায়তুল আমানে অবস্থিত অর্নাস ও মাস্টাস শাখার সীমানা প্রাচীর নির্মাণের উদ্যোগ নেয় কলেজ কর্তৃপক্ষ।

এদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও কলেজ কর্তৃপক্ষ গত সোমবার (৩ মে) কলেজের শহর ক্যাম্পাস ডিগ্রি শাখার মাঠের পশ্চিম-উত্তর প্রান্ত থেকে হঠাৎ নির্মাণকাজ শুরু করেন। পরের দিন মঙ্গলবার এ নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়া হয়।

শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত বড় এ মাঠটি আটকে দেয়ার বিপক্ষে ফরিদপুরের নাগরিক সমাজ।

ফরিদপুরের নাগরিক সমাজ ও সুধী মহলের নেতৃবৃন্দ জানান, যেভাবে কলেজের ক্যাম্পাসে দেয়াল দেয়া হচ্ছে, তাতে কলেজের নিরাপত্তা রক্ষিত হবে না। শুধুমাত্র মাঠটি আটকে দেয়া হবে। শহরের প্রাণ হচ্ছে এ মাঠ। বাচ্চারা বিকেলে এ মাঠে খেলতে আসে। সীমানা প্রাচীর তৈরি করা হলে শহরবাসীর দম ফেলার জায়গাও থাকবে না।

ফরিদপুর রাজেন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোশাররফ আলী জাগো নিউজকে বলেন, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের অধীনে রাজেন্দ্র কলেজের দুই ক্যাম্পাসের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়। কিন্তু বায়তুল আমান ক্যাম্পাসের জন্য সীমা প্রাচীরের কার্যাদেশ দেয়া হয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে।

তবে তিনি স্বীকার করেন, রাজেন্দ্র কলেজের সীমানা প্রাচীরের নির্মাণের শহর ক্যাম্পাসের কোনো কার্যাদেশ দেয়া হয়নি।

তিনি আরো বলেন, আমার চাকরি প্রায় শেষের দিকে। শেষ সময়ে আমার চাওয়া ছিল শহর ক্যাম্পাসে একটি সীমানা প্রাচীর হোক। এজন্য কাজ শুরু করেছিলাম।

ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুম রেজা জাগো নিউজকে বলেন, একটি ক্যাম্পাসের কার্যাদেশ দিয়ে তো অন্য ক্যাম্পাসের কাজ করা যাবে না। সরকারি বিধিলঙ্ঘন করে অধ্যক্ষ সাহেব কাজ করার চেষ্টা করছিলেন। ফলে আমরা কাজ বন্ধ করে দিয়েছি।

এসএমএম/এএসএম