এক সময় আবহমান গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য ছিল ছনের ঘর। কয়েক দশক আগেও ফরিদপুরের সালথাসহ বিভিন্ন উপজেলায ছনের ঘর দেখা যেত। এখন আর সেটি দেখা যায় না।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ফরিদপুরের ঐতিহ্যের নিদর্শন ছনের ঘর। গ্রামীণ এলাকার গরিব-মধ্যবিত্তের বাড়ির ঘরের ছাউনির একমাত্র অবলম্বন ছিল এই ছন। সেকালে ছন মাটি কিংবা বেড়ার ঘরে ছাউনি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। ছন কেটে শুকিয়ে তা বিক্রির জন্য ভার বেঁধে হাটে নিয়ে যাওয়া হতো। এক সময় এলাকাভিত্তিক ছনখোলা হিসেবে বেশ পরিচিত ছিল। কিন্তু কালের বিবর্তনে সেই দৃশ্য এখন আর তেমন চোখে পড়ে না। আধুনিক সভ্যতায় মানুষ এখন পাকা-আধাপাকা বাড়ি তৈরিতে ব্যস্ত। ছাউনি হিসেবে ব্যবহার করছে টিনকে। ফলে গ্রাম থেকে ছনের ব্যবহার ক্রমশ বিলুপ্তির পথে।
আগের মতো ছন পাওয়া যায় না বলে জানান মধুখালীর এক চাষি চুন্নু সেখ। তিনি বলেন, প্রতিবছর ঘরে পুরনো ছনের ছাউনি সরিয়ে নতুন করে ছন ব্যবহার করা হয়। অর্থাভাবে টিনের পরিবর্তে ছনকে ছাউনি হিসেবে ব্যবহার করা হতো। তা ছাড়া ছনের চাহিদা কমে যাওয়ায় বিভিন্ন উপজেলার চাষিরাও বিমুখ হচ্ছে দিন দিন।
ছনের ছাউনির ঘর তৈরির জন্য গ্রামে কিছু কারিগর ছিলেন। তাদের দৈনিক মজুরি ছিল ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত। ছনকে খুলে কাস্তে দিয়ে ছনের অপ্রয়োজনীয় অংশ ছাড়িয়ে শোলার মতো ঝুরঝুরে করা হয়। এরপর আগার পাতলা অংশ কেটে সাজিয়ে কয়েকটি ধাপে ছাউনি বাঁধা হতো। ফরিদপুর জেলার ৯ টি উপজেলার হাট-বাজারগুলোতে এখন ছন খুব কমই দেখা যায়। সাধারণ গ্রামের মানুষ ঘর তৈরিতে ছাউনি হিসেবে আগের মতো ছনের ব্যবহার করেন না।
এক সময় বোয়ালমারী, সাতৈর, বনমালীপুর, সহস্রাইল, রুপাপাত, আলফাডাঙ্গা, বানা, গোপালপুর, জাটিগ্রাম, সালথা, ময়েনদিয়া, নগরকান্দা, চরভদ্রাসন, সদরপুর, মধুখালী, কামারখালী, বাগাট বাজারে ছন বিক্রির জন্য আনা হতো।
সালথা উপজেলার বিধান মণ্ডল বলেন, মাঠে-ঘাটে, হাট-বাজারে ছন দেখা যায় না, গ্রাম্য এলাকায়ও ছনের ঘর চোখে পড়েনা। ছন আর ছনের ঘর ৫০ গ্রাম ঘুরে চোখে পড়বে কিনা সন্দেহ।
ফরিদপুরের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আমীর চারু বাবলু জাগো নিউজকে বলেন, ছনের ঘরে বসবাস ছিল খুবই আরামদায়ক। ছনের ঘর গ্রীষ্মকালে ঠাণ্ডা ও শীতকালে গরম থাকতো। ছনের ঘর তৈরি করার ঘরামি বা মিস্ত্রীর খুব কদর ছিল। আর বর্তমানে ইট-বালু, সিমেন্ট হাতের নাগালেই অহরহ পাওয়া যাচ্ছে। এগুলো ক্রয় করার সমর্থনও মানুষের আছে। অন্যদিকে কাশবন ও ছন হারিয়ে গেছে।
আরএইচ/এএসএম