কিশোর রবিউল ইসলামের বয়স মাত্র ১৩ বছর। যে বয়সে অন্য ছেলেমেয়েদের মতো হেসে-খেলে থাকার কথা, সে বয়সে কচি হাতে ধরেছে রিকশার হান্ডেল। বয়স অল্প হলেও তার কাঁধে সংসারের বিশাল বোঝা। রবিউল রিকশা চালিয়ে যা উপার্জন করে তা দিয়েই চলে সংসারের খরচ। ঘরে রয়েছেন অসুস্থ বাবা, ছোট বোন আর সৎ মা।
রবিউলের বাড়ি পটুয়াখালী সদর উপজেলার বসাকবাজার এলাকায়।
রবিউল জাগো নিউজকে বলে, ‘বাবা অসুস্থ তাই রাস্তায় রিকশা চালাতে নেমেছি, নয়তো খামু কী? বাবা সেলিম খা মাঝে মাঝে রিকশা চালান। চার বছর আগে মা ছকিনা বেগম বাবার সঙ্গে ঝগড়া করে চলে যান। তারপর মা আমাদের দুই ভাইবোনের আর খোঁজ নেননি। তারপর বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করেন। সৎমা সাবিনা বেগমের আগের ঘরের রিয়া মনি নামের একটি মেয়ে আছে। সে আমাদের সঙ্গে থাকে না। সে তার নানা বাড়িতে থাকে। ছোটবোন শারমিন শারিখখালী সরকারি প্রথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণিতে লেখাপড়া করে। আমিও ওই স্কুলে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়াশোনা করি।’
‘মাঝখানে টাকার অভাবে পড়ালেখা ছেড়ে দিয়েছিলাম। এখন আবার স্কুলে ভর্তি হয়েছি। ছোটবোনের লেখাপড়ার খরচও আমি চালাই। এখন রাস্তায় মানুষজন কম তাই ২০০-৩০০ টাকা উপার্জন করতে পারি। এর আগে রিকশা চালিয়ে ৫০০ টাকা উপার্জন করতে পেরেছি। এখন একটু কষ্ট হচ্ছে।’
রবিউলের বাবা সেলিম খা জানান, রিকশা চালানোর সময় মোটরসাইকেলের সঙ্গে তার রিকশার মুখোমুখি সংর্ঘষ হয়। এ সময় তার কোমরের হার ভেঙে যায়। তাই আগের মতো আর রিকশা চালাতে পারেন না।
তিনি বলেন, দুই জায়গা থেকে ৭০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে রিকশা কিনেছি। প্রতি সপ্তাহে এখন ১৯০০ টাকার কিস্তি পরিশোধ করতে হয়। না খেয়ে থাকলেও কিস্তি দিতে হবে। তাই বাপ-বেটা মিলে রিকশা চালাই।’
এসআর/এএসএম