ঈদ যাত্রায় সরকারের কোনো বাধা নিষেধই থামাতে পারছে না ঘরমুখো যাত্রীদের। প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ করতে ঝুঁকি নিয়ে ঘরমুখো হচ্ছে মানুষ। যে যেভাবে পারছেন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছুটছেন গ্রামে।
মঙ্গলবার (১১ মে) সকাল থেকে গাজীপুরের বিভিন্ন ব্যস্ততম পয়েন্ট এবং মহাসড়কে ঘরমুখো মানুষের ঢল নামে। বিশেষ করে দুপুরের পর বিভিন্ন পোশাক কারখানা ছুটি হওয়ায় মানুষের স্রোত বাড়তে থাকে। অনেকে একাধিক শিশুসন্তান নিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে রয়েছেন ট্রাক, পিকআপ বা বিকল্প যানবাহনের আশায়।
এদিকে, সকাল থেকে গাজীপুর-কালিয়াকৈর-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। লকডাউন বলবৎ থাকার পরও মহাসড়কে রয়েছে যানবাহনের চাপ। ট্রাক, পিকআপ, ব্যক্তিগত গাড়িসহ বিভিন্ন যানবাহনে গন্তব্যে যাচ্ছে মানুষ। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কিছু দূরপাল্লার বাসও রাস্তায় নামে। ঈদ যত এগিয়ে আসছে অন্যান্য দিনের তুলনায় যানবাহনের চাপও তত বাড়ছে। এসব যানবাহনে স্বাস্থ্যবিধি মানা তো দূরের কথা মাস্কও পরতে দেখা যায়নি অনেক যাত্রীকে।
দুপুরে মহাসড়কের কালিয়াকৈরের চন্দ্রায় ট্রাক, পিকআপ, মাইক্রোবাস, ব্যক্তিগত গাড়ি যে যেভাবে পারছেন গন্তব্যে ছুটছে। গণপরিবহনে নিষেধাজ্ঞা থাকায় ঘরমুখো মানুষ বেশি ভাড়া দিয়েই মাইক্রোবাসে করে গন্তব্যে রওনা হচ্ছে। কেউ কেউ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রাক বা পিকআপেও চড়ছেন।
কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় সকালে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানবাহনে স্বাস্থ্যবিধি মানার প্রবণতাও ছিল উপেক্ষিত। স্বাভাবিকের চেয়েও কয়েকগুণ বেশি ভাড়া নিলেও বাসের প্রতিটি সিটেই অতিরিক্ত যাত্রী নেয়া হয়। এমনকি কোনো কোনো বাসে দাঁড়িয়ে যাত্রী নিতেও দেখা গেছে।
বেলা ১১টায় সরেজমিনে গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তায় দেখা যায়, ঝুঁকি নিয়ে গ্রামে ফিরছেন মানুষ। এসময় কম সংখ্যক যাত্রীকেই স্বাস্থ্যবিধি মানতে দেখা গেছে।
গাজীপুর চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় কথা হয় ময়মনসিংহগামী যাত্রী রাকিবুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, গ্রামে যাব। দূরপাল্লার বাস বন্ধ থাকায় অন্য যাত্রীদের সঙ্গে মাইক্রোবাসে করে (হায়েস) বাড়ি যাচ্ছি। মাইক্রোবাসে ভাড়া তিনগুণ বেশি। ময়মনসিংহের সাধারণ সময়ের ভাড়া ২০০ টাকা। কিন্তু এখন যেতে হচ্ছে ৫০০ টাকায়। স্বজনদের সঙ্গে ঈদ করতে বেশি ভাড়া দিয়ে বাড়ি যেতে হচ্ছে। তারপরও বাড়িতে যেতে পারছি এটাই আনন্দ।
গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তায় কথা হয় নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার পোশাক কারখানার শ্রমিক আলাউদ্দিন সঙ্গে। তিনি বলেন, গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও ট্রাক ও পিকআপে করে বাড়িতে যাওয়া যায় শুনেছি। বাসস্ট্যান্ডে এসে দেখি একজন লোক ময়মনসিংহ, জামালপুর, নেক্রকনো যাওয়ার জন্য যাত্রী ডাকছেন। ভাড়া ময়মনসিংহ পর্যন্ত একেকজন ৪৫০ টাকা। ভাড়াটা দ্বিগুণের চেয়েও বেশি।
যাত্রী আনা-নেয়া করা প্রাইভেটকার চালক সোহেল রানা বলেন, সরকার গণপরিবহন বন্ধ রাখায় যাত্রীর চাপ রয়েছে। তবে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে যাত্রী আনা-নেয়া করতে হয়। পুলিশ দেখলে মামলা দিয়ে গাড়ি নিয়ে যায়। টাকা দিয়ে ছাড়াতে হবে, সে জন্য বাড়তি ভাড়া নিচ্ছি।
গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জহুরুল ইসলাম জানান, মহাসড়কের কোথাও কোনো যানজট নেই। যানজট রোধে ও নিরাপত্তার জন্য মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ৫২৯ পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। সকাল থেকে হাজার হাজার ঘরমুখো মানুষ মহাসড়কে ও বাস স্ট্যান্ডে ভিড় করছে।
মো. আমিনুল ইসলাম/এএইচ/জিকেএস