স্বাস্থ্য

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশে অভাবনীয় উন্নতি হয়েছে : বিএসএমএমইউ ভিসি

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সঠিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কারণেই বাংলাদেশ আজ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছে। স্বপ্নের পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল আজ বাস্তবে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবা, তথ্য, যোগাযোগ ও প্রযুক্তি, অবকাঠামো, কৃষিসহ সব ক্ষেত্রেই অভাবনীয় উন্নতি লাভ করেছে।

Advertisement

শেখ হাসিনার ৪১তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে সোমবার (১৭ মে) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের বি ব্লকে স্থাপিত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক শারফুদ্দিন বলেন, ১৯৮১ সালের ১৭ মে সব বাধা ও ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে ঝড়-বৃষ্টির মাঝে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের জন্য আশীর্বাদ হয়ে ফিরে এসেছিলেন বলেই দেশের এতো উন্নতি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই বাংলাদেশ উন্নত দেশে পরিণত হবে।

দেশের উন্নতি, অগ্রগতি, সফলতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে তিনি বলেন, দেশে আজও ষড়যন্ত্র চলছে। হেফাজত নানা অপতৎপরতা চালাচ্ছে। দেশবাসীকে সব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সতর্ক থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে আরও শক্তিশালী করতে কাজ করে যেতে হবে।

Advertisement

উপাচার্য আরও বলেন, বিএসএমএমইউয়ের সকল উন্নয়ন শেখ হাসিনার হাত ধরেই হয়েছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে আজ বিভিন্ন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে দক্ষ চিকিৎসক গড়ে তোলা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল বাস্তবায়ন হলে চিকিৎসার জন্য রোগীদের বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা একেবারেই হ্রাস পাবে। প্রধানমন্ত্রীর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে আমাদের অঙ্গীকার হলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়কে চিকিৎসা শিক্ষা, চিকিৎসা সেবা ও গবেষণায় আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার লক্ষ্যে আমরা সকলে নিজ নিজ ক্ষেত্রে আরও বেশি করে কাজ করবো।

এ সময় বিএসএমএমইউ উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ রফিকুল আলম, উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ হোসেন, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. একেএম মোশাররফ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, ডেন্টাল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আলী আসগর মোড়ল, বেসিক সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. খন্দকার মানজারে শামীম, মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. মাসুদা বেগম, শিশু অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. শাহীন আকতার, নার্সিং অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ হোসেন প্রমুখসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যানবৃন্দ, বিভিন্ন অফিসের পরিচালকবৃন্দ ও অফিস প্রধান, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, চিকিৎসক, কর্মকর্তা, নার্স ও কর্মচারীবৃন্দ স্বাস্থ্যবিধি মেনে উপস্থিত ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ), বিএসএমএমইউয়ের পক্ষ থেকেও পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হয়।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর ৪১তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ফলজ, বনজ ও ফুলের চারা রোপণের মাধ্যমে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়। উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ কাঠ গোলাপের চারা রোপণের মাধ্যমে কর্মসূচি উদ্বোধন করেন। হাসনা হেনা, বেলি, জুঁই, শিউলি, গন্ধরাজ, ডালিম, করমচা, মেহগনি, আকাশমনির চারা রোপণ করা হয়। এরপর শহীদ ডা. মিল্টন হলে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

আলোচনা সভায় ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম ইকবাল আর্সলান, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ডা. মো. ইহতেশামুল হক চৌধুরী, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজ। সভাপতিত্ব করেন বিএসএমএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ।

Advertisement

শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বজন হারানোর বেদনা নিয়ে তৎকালীন শাসকগোষ্ঠীর বাঁধা ও ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফিরেছিলেন। এরপর তাকে জিয়া, এরশাদ ও খালেদা জিয়ার শাসন আমলে বার বার হত্যাচেষ্টা করা হয়েছে। বর্তমানেও ষড়যন্ত্র থেমে নেই। বিএনপি, জামায়াত, হেফাজত ও নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আজও দেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে। দেশ বিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত এই অপশক্তির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে এবং চিরতরে উৎখাত করতে হবে।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরেছিলেন বলেই বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়েছে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদেরকে সতর্ক থেকে তার হাতকে শক্তিশালী করতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, প্রধানমন্ত্রী শত প্রতিকূলতার মধ্যেও যেদিন দেশে ফিরেছিলেন তখন দেশের মাথাপিছু জাতীয় আয় ছিল মাত্র ১০০ ডলার। বর্তমানে মাথাপিছু আয় ২৪০০ মার্কিন ডলার। বিএনপি-জামায়াতের আমলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল মাত্র ৯ বিলিয়ন ডলার, সেখানে বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এভাবে প্রতিটি ক্ষেত্রেই শেখ হাসিনা দেশকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন।

এমইউ/এমএসএইচ/এমকেএইচ