দেশজুড়ে

নোয়াখালীতে চিকিৎসকদের অবহেলায় গৃহবধূর মৃত্যু

নোয়াখালীতে চিকিৎসকদের অবহেলায় নাজমা আক্তার (২৫) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (২১ মে) রাত ৮টা মাইজদী মুন প্রাইভেট হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত গৃহবধূ নাজমা আক্তার (২৫) সদর উপজেলার ১ নম্বর চরমটুয়া ইউনিয়নের ধর্মপুর উদয় সাধুরহাটের এরাদ আলী ভূঞা বাড়ির সৌদি প্রবাসী মো. আবদুল্লাহর স্ত্রী।

নিহতের ভাই অ্যাডভোকেট নিজাম উদ্দিন জানান, তিন বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় নাজমা আক্তারের হাত ও পা ভেঙে যায়। স্টিলের পাত বসিয়ে ওই ভাঙার চিকিৎসায় করা হয়েছিল। হাত পায়ের ওই পাত অপসারণে শুক্রবার দুপুরে মুন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন নাজমা। রাতে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন ডাক্তার আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বিল্লাল।

নিহতের ভাই দিপু জানান, শুক্রবার রাত ৮টায় এনেস্থিসিয়া দিয়ে অজ্ঞান করে অস্ত্রোপচারের সময় হঠাৎ নাজমার জ্ঞান ফিরে এলে তিনি স্ট্রোক করে মারা যান। এজন্য এনেস্থিসিয়া ডাক্তার আশিস কুমার দেবনাথকে দায়ী করেন। পরে ওই ডাক্তারের উপর চড়াও হলে রোগীর স্বজনদের রোষানল থেকে বাঁচাতে ডাক্তার আশিসকে পুলিশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

মুন হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শহীদুল ইসলাম সায়েদ দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নিহত গৃহবধূর স্বজনেরা চার হাজার টাকা ভাড়ায় শুধু আমাদের অপারেশন থিয়েটারটা ব্যবহার করেছেন। আর চিকিৎসক থেকে শুরু করে সকল কিছু তাদের জিম্মায় ছিল।

সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাহেদ উদ্দিন জানান, খবর পেয়ে মুন হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। একজন ডাক্তারকে ভুক্তভোগীর স্বজনদের রোষানল থেকে রক্ষা করতে থানায় নিয়ে আসা হয়। পরে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।

নোয়াখালী জেলা সিভিল সার্জন ডা. মাসুম ইফতেখার জানান, এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার (২০ মে) রাতে মাইজদীর উডল্যান্ড প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসকদের অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ ওঠে।

আরএইচ/এমকেএইচ