ফরিদপুরের নগরকান্দার শতবর্ষী সেই বৃদ্ধার অবশেষে ঠাঁই হলো ছেলের ঘরে। স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে অভিযুক্ত ছেলে রমেন মণ্ডল রোববার (২৩ মে) রাতে বৃদ্ধা মা রাজেশ্বরী মণ্ডলকে নিজেদের ঘরে তুলে নেন।
এর আগে ‘শতবর্ষী মাকে গোয়ালঘরে আটকে রাখল একমাত্র ছেলে’ শিরোনামে রোববার প্রতিবেদন প্রকাশ করে জাগোনিউজ২৪.কম।
নগরকান্দা পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কাউসার আহমেদ মিয়া বলেন, ‘সোমবার (২৪ মে) আমি ওই বাড়িতে গিয়ে খোঁজ-খবর নিয়েছি। বৃদ্ধা ওই মা ছেলের ঘরেই আছেন।’
অভিযুক্ত ছেলে রমেন মণ্ডল বলেন, ‘আমি মাকে আটকে রেখে ভুল করেছি। পাপ করেছি। আমি না বুঝে অনেক বড় ভুল করেছি। আর এমন করব না।’
নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেতি প্রু জাগো নিউজকে বলেন, ‘সন্ধ্যায় ঘটনাটি জানতে পারি। রাতে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিস্তারিত জানার পর বৃদ্ধা মায়ের ছেলে রমেন মণ্ডল ভুল স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। এজন্য তাকে প্রথমবার সুযোগ দিয়েছি। পরবর্তীতে এমন ঘটনা ঘটালে তার সরকারি চাকরির অবসরকালীন ভাতা বন্ধ করাসহ কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
এসময় নগরকান্দা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম রেজাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, ভুক্তভোগী ওই বৃদ্ধার নাম রাজেশ্বরী মণ্ডল। তিনি করপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তার ছেলে রমেন মণ্ডল উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত থেকে সম্প্রতি অবসরে আছেন।
স্থানীয়রা জানান, শতবর্ষী মাকে একটি পরিত্যক্ত গোয়ালঘরে দীর্ঘদিন তালাবদ্ধ অবস্থায় আটকে রাখেন রমেন মণ্ডল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, একটি পরিত্যক্ত গোয়ালঘরে জরাজীর্ণ অবস্থায় আটকে রাখা হয়েছে বৃদ্ধা রাজেশ্বরী মণ্ডলকে।
তালা খোলার পর দেখা যায়, শতবর্ষী মা ময়লা-আবর্জনার ভেতর তীব্র গরমে কাঁতরাচ্ছেন। ঘরে কোনো ফ্যান নেই। খাবার কষ্টে রাখা হয়েছে তাকে।
এসআর/এমকেএইচ