সত্তরোর্ধ্ব মানিক সেখ। জীবনের এত বছরেও চার চালা ঘরে থাকার সৌভাগ্য হয়নি তার কপালে। পাট খড়ির বেড়া দিয়ে কুঁড়ে ঘরেই দিন পার করছেন। তবে ঝড়-বৃষ্টি এলেই নির্ঘুম রাতে কাটের তার। একটু বৃষ্টি হলেই ঘর দিয়ে নামে পানি।
মানিক সেখ ফরিদপুরের ভাঙ্গার গঙ্গাধরদী গ্রামের বাসিন্দা। তিন ছেলে দুই মেয়ে নিয়ে ছিল সংসার। কিন্তু ছেলে-মেয়ে বড় হয়ে যে যার মতো করে আলাদা সংসার পেতেছেন। অভাবের তাড়নায় স্ত্রী মারা গেছেন বছর চারেক আগে। অসহায় মানিক সেখ বলেন, ‘খুব খারাপ অবস্থার মধ্যে দিয়ে জীবন অতিবাহিত করতে হচ্ছে। কারও কোনো সাহায্য সহযোগিতা পাই না। ঘর-টর বুঝি না রাতে থাকার জন্য একচালা ভাঙা-চুরা কুঁড়েঘর আছে তার মধ্যে মাথা গুঁজে কোনো মতে পড়ে থাকি। যে রাতে ঝড়-বৃষ্টি হয়, সে রাতে আর ঘুমাতে পারি না।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই পর্যন্ত পাইনি কোনো বয়স্ক ভাতা বা সরকারি কোনো অনুদান। মাথা গোঁজার একমাত্র ঘর দিয়েও পড়ে পানি। শেষ বয়সে ভালো একটি ঘরে থাকার খুব ইচ্ছে।’
স্থানীয় বাসিন্দা সোহাগ মাতুব্বর বলেন, ‘মানিক সেখের দেহের প্রতিটি হাড় তার অভাবের সাক্ষী দিচ্ছে। এই অসহায় মানুষের পাঁশে যদি কেউ দাঁড়াত ও সাহায্য সহযোগিতা করতো তাহলে হয়তো বা শেষ বয়সে এসে ভালো থাকতে পারতো মানুষটা।’
এ ব্যাপারে স্থানীয় ঘারুয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. শফিউদ্দিন মোল্যা বলেন, ‘সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নিজস্ব ২ শতাংশ জায়গা থাকতে হয়। সেক্ষেত্রে মানিক সেখের দুই শতাংশ জায়গা থাকলে আমরা ইউএনওকে বলে তাকে একটা ঘরের ব্যবস্থা করে দেব।’
তিনি আরও বলেন, ‘ওই বৃদ্ধার বয়স ৬৫ কিংবা এর ওপরে হলে তাকে একটা বয়স্ক ভাতা করা দেয়া হবে।’
ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজিম উদ্দিন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর দেয়া হতদরিদ্রদের জন্য প্রথমধাপের ঘর বিতরণ শেষ হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপের ঘর যখন বরাদ্দ পাব তখন তার জন্য একটি ঘরের ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া ওই বৃদ্ধাকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।’
এসজে/এএসএম