দেশজুড়ে

সরাইলে সেলুনভিত্তিক পাঠাগার চালু

সেলুনে গেলেন চুল কাটতে। দেখলেন নরসুন্দর অন্য কাস্টমারদের নিয়ে ব্যস্ত। আপনাকে অপেক্ষা করতে হবে। অপেক্ষার সময়টুকু যদি বই বা পত্রিকা পড়ে কাটানো যায় তাহলে কেমন হয়? এ ধারণা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে সেলুনভিত্তিক একটি পাঠাগার উদ্বোধন করা হয়েছে।

শনিবার (২৯ মে) বেলা ১১টায় উপজেলার অরুয়াইল বাজারে ‘নুকুল হেয়ার কাটিং সেলুন’ নামে একটি দোকানে ব্যতিক্রমী এ পাঠাগারটি যাত্রা শুরু করে।

সেলুনভিত্তিক পাঠাগারের উদ্যোক্তা তরুণ লেখক হারুন অর রশীদ। তিনি কিশোরগঞ্জ জেলার কুলিয়ারচর উপজেলার গোবরিয়া আব্দল্লাহপুরের মরহুম আসাদুল্লাহ মাস্টারের ছেলে। পেশায় ব্যাংকার হলেও আপাদমস্তক বইপ্রেমী মানুষ। তরুণ প্রজন্মকে বইয়ের দিকে ধাবিত করতে ১০ বছর ধরে তিনি অনলাইন ও অফলাইনে বই নিয়ে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন।

হারুন অর রশীদ প্রথমে ব্যতিক্রমধর্মী সেলুনভিত্তিক পাঠাগার যাত্রা শুরু করেন ঢাকার নবাবগঞ্জে স্থাপনের মাধ্যমে। দেশের দ্বিতীয় সেলুনভিত্তিক পাঠাগারটি স্থাপন করলেন তার শ্বশুরবাড়ি এলাকা সরাইল উপজেলার অরুয়াইলে।

সেলুনভিত্তিক পাঠাগারের উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠাতা হারুন অর রশীদ বলেন, জ্ঞানের উৎকর্ষ সাধনে, মাদকমুক্ত ও আলোকিত সমাজ বিনির্মাণে বই পড়ার বিকল্প নেই। এখানে চুল কাটতে আসা কাস্টমারদের পাশাপাশি পাঠকরা বই পড়তে পারবেন। এভাবে আমরা ক্রমান্বয়ে সারাদেশ সেলুনভিত্তিক পাঠাগার ছড়িয়ে দেব।

এসময় উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সাহের উদ্দিন, অরুয়াইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি মো. আবু তালেব, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট গাজী মো. শফিক, প্রফেসর মো. এলাই মিয়া, সাংবাদিক এম মনসুর আলী, সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা আবু বক্কর সিদ্দিকী, প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতি অরুয়াইল ক্লাস্টারের সাধারণ সম্পাদক মো.আসিফ ইকবাল খোকন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

প্রথম ধাপে পাঠাগারটিতে আড়াই শতাধিক বিভিন্ন প্রকার বই প্রদান করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরও বই সংগ্রহ করে পাঠাগারটি সমৃদ্ধ করা হবে।

আবুল হাসনাত মো. রাফি/আরএইচ/জিকেএস