লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে হত্যার পর মরদেহ গুমের মামলার সাতমাস পর ভিকটিম ইয়াসমিন আক্তার বিথিকে জীবিত উদ্ধার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
সোমবার (৩১ মে) সন্ধ্যায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআই নোয়াখালী কার্যালয়ের উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফরিদ উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, রাজধানী সাভারের নবীনগর এলাকা থেকে বিথিকে উদ্ধারের পর রোববার (৩০ মে) বিকেলে লক্ষ্মীপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল দেবের আদালতে হাজির করা হয়। এসময় তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। হত্যা করে মরদেহ গুম করার অভিযোগে মামলা হলেও তিনি যে জীবিত তা আদালতে উপস্থিত করে নিশ্চিত করা হয়েছে।
পিবিআই সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাভারের নবীনগর এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। সেখানে তিনি একটি কল সেন্টারে কাজ করতেন। গেল বছর ১৯ নভেম্বর বিথির বাবা বাবুল মিয়া বাদী হয়ে আদালতে গুমের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন। পরে আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে নোয়াখালী পিবিআইকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিথি রায়পুর উপজেলার চরপাতা গ্রামের ওমান প্রবাসী আবদুর রবের স্ত্রী। তাদের দুই বছরের একটি সন্তান রয়েছে। ২০২০ সালের ২০ অক্টোবর কাউকে কিছু না বলে শিশুটিকে রেখে বিথি স্বামীর বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। এ ঘটনায় পরদিন তার শ্বশুর আবদুল কাদের রায়পুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে বিথির বাবা আবদুর কাদের বাদী হয়ে তার শ্বশুর কাদের, শাশুড়ি খুকি বেগম, ননদের স্বামী আক্তার হোসেন ও বিনু আক্তারসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। এ ব্যাপারে আবদুল কাদের বলেন, আমাদেরকে ফাঁসানোর জন্য ছোট শিশুটিকে রেখে বিথি পালিয়ে গেছে। এরপর উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলা দিয়ে সাতমাস আমাদেরকে হয়রানি করা হয়েছে। বিথির পরিবারের কারণে আমাদের সম্মানহানি হয়েছে। নাটক সাজিয়ে মামলা দায়ের করে আমাদের ক্ষতি করেছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান তিনি।
কাজল কায়েস/আরএইচ/এমকেএইচ