টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে ক্লিনিক ব্যবসায়ী আনিসুর রহমানকে ভাড়াটে খুনি দিয়ে হত্যা করিয়েছেন তার স্ত্রী। হত্যায় অংশ নেয়া দুজনকে গ্রেফতারের পর আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে এ কথা জানান তারা। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মুরছেনা বেগমকে গ্রেফতার করেছে ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি) ।
রোববার (৬ জুন) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টাঙ্গাইল সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মো. কুতুব উদ্দিন।
তিনি জানান, শনিবার রাতে নিহত ক্লিনিক ব্যবসায়ী আনিসুরের স্ত্রী মুরছেনা বেগমকে তার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। আজ টাঙ্গাইল চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে তার সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে।
পুলিশ সুপার কুতুব উদ্দিন আরও জানান, মামলাটি পাওয়ার পর তদন্তের মাধ্যমে হত্যায় অংশ নেয়া ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়। পরে তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে তাদের অবস্থান জানা যায়। ৩ জুন বিকেলে গাজীপুরের টঙ্গী বাজার এলাকা থেকে প্রথমে রিপন খানকে (২৩) গ্রেফতার করা হয়। পরে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ওই রাতেই ময়মনসিংহের মুক্তগাছা উপজেলার পোড়াবাড়ী গ্রাম থেকে আব্দুস সেলিম খান (৬০) নামে অপর এক বৃদ্ধকে গ্রেফতার করা হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মো. সুজন মিয়া জানান, জিজ্ঞাসাবাদে তারা দুজনই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। আনিসুরকে হত্যার জন্য তার স্ত্রী মুরছেনা বেগম তাদের ভাড়া করেছিলেন। তারা আদালতে স্বীকারোক্তি দিতেও রাজি হন। পরে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) টাঙ্গাইল চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে জবানবন্দি দেন তারা। পরে তাদের কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হয়।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১৭ নভেম্বর দেলদুয়ার উপজেলার লাউহাটি ইউনিয়নের হেরেম্বপাড়ার আনিসুর রহমানের (৫০) বস্তাবন্দি মরদেহ তার গ্রামের খাল থেকে উদ্ধার করা হয়। তিনি লাউহাটি বাজারের জনসেবা ক্লিনিকের মালিক ছিলেন। ঘটনার পরদিন তার মেয়ে মারুফা আক্তার বাদী হয়ে দেলদুয়ার থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামী করা হয়।
প্রথমে দেলদুয়ার থানা পুলিশ মামলাটি তদন্ত করে। পরে পুলিশ সদর দফতরের নির্দেশে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় সিআইডি পুলিশকে।
আরিফ উর রহমান টগর/এসজে/জিকেএস