সাতক্ষীরার তালা উপজেলার আলাদীপুর গ্রামের খামারি এম এম দিদার। এবার কোরবানি ঈদে বিক্রির জন্য একটি গরু লালন-পালন করেছেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ান ফ্রিজিয়ান জাতের এই গরুটির নাম রেখেছেন ‘বস’।
বিশাল আকৃতির বস-এর ওজন প্রায় ২৮ মণ। আকারে বিশাল হওয়ায় এই গরুটির পরিচর্যা করা খুবই কঠিন। তাকে খাওয়ানো, গোসল করানোসহ সব কিছুর লক্ষ্য রাখতে হয় নিয়মিত। সবচেয়ে ভালো দিক হলো- ঘাস, চালের কুড়া, লতা-পাতা খেতেই পছন্দ করে বস।
খামারি এম এম দিদারের দাবি—এবারের ঈদের বাজারে বড় গরুগুলোর মধ্যে অন্যতম তার ‘বস’। ইতোমধ্যে অনেকেই দূর-দূরান্ত থেকে বসকে দেখতে আসছেন। ন্যায্যমূল্য পেলেই গরুটি বিক্রি করবেন খামারি দিদার।
খামারি এম এম দিদার বলেন, ‘করোনাকালে এত বড় গরু এবার পাওয়া যাবে না। আমি আশা করছি- অন্তত ২৫ লাখ টাকায় গরুটি বিক্রি হবে। তবে করোনার কারণে দাম কিছুটা কম হওয়ার আশঙ্কা করছি। তবে গরুটি ঢাকায় নিতে পারলে আশানুরূপ দামেই গরুটি বিক্রি করতে পারব। তবে কাঙ্ক্ষিত দাম না পেলে ঈদে গরুটি বিক্রিই করব না।’
তিনি বলেন, ‘বসের জন্য খুদ, কুড়া, খৈল, ভুসি, ঘাস, সুষম খাদ্য আর চিকিৎসা দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৬০০ টাকা ব্যয় হয়। দুই বছর ধরে লালন-পালন করে বসের ওজন এখন ২৮ মণ।’
তিনি আরও বলেন ‘কয়েক বছর ধরে গরু লালন-পালন করছি। প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের উৎসাহে একটা খামারও করেছি। তবে অর্থের অভাবে খামারে বেশি গরু তুলতে পারিনি।’
দিদার বলেন, ‘কয়েকটি ব্যাংকে কথা হয়েছিল। খামার দেখে গরু কিনতে তারা ঋণ দিতেও চেয়েছিলেন। তবে পরে কোনো কারণ ছাড়াই তারা ঋণ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। যে কারণে খামার পড়ে থাকলেও গরু তুলতে পারিনি।’
তবে শেষ পর্যন্ত বসকে হাটে তুলতে না পারলে অনলাইনে বিক্রি করা হবে কি-না তা নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেননি খামারি দিদার।
আহসানুর রহমান রাজীব/এএএইচ/এএসএম