দেশজুড়ে

জেলে কার্ডের চাল নিয়ে মেয়ে-প্রতিবেশীদের মারধর, বৃদ্ধের মৃত্যু

চাঁদপুর শহরের বড়স্টেশন এলাকায় জেলে কার্ডের চাল ভাগাভাগি নিয়ে বাকবিতণ্ডায় মেয়ে ও প্রতিবেশীদের মারধরে নছির হাওলাদার (৬৫) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার (২৬ জুন) সন্ধ্যায় তিনি নিজ বাড়িতে অসুস্থ অবস্থায় মারা যান। নিহত নছির মাছের আড়তে শ্রমিকের কাজ করতেন।

তার স্ত্রী শুকতারা বেগম জানান, শুক্রবার (২৫ জুন) রাতে বড় মেয়ে জোনাকি তার বাবার কাছে জেলে কার্ডে পাওয়া চালের ভাগ নিতে আসেন। তখন বাবা-মেয়ের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। এ সময় প্রতিবেশী বিল্লাল প্রধানিয়া, আবুল বাদশা প্রধানিয়া ও তাদের পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থলে আসে। এক পর্যায়ে তারাও তর্কে জড়িয়ে যান। ওই সময় নছির হাওলাদারকে তার মেয়ে এবং প্রতিবেশীরা মিলে মারধর করেন। সকালে তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ বোধ করেন। পরে সন্ধ্যায় তিনি মারা যান।

তিনি আরও জানান, তার বড় মেয়ে জোনাকি একজন চিহ্নিত মাদক কারবারি। এরআগে মাদক মামলায় দুবার জেলে নেয়া হয়েছে তাকে। প্রথম স্বামীকে তালাক না দিয়ে অন্যত্র বিয়ে করেছেন তিনি। এছাড়া প্রথম ঘরে তার তিন সন্তান রয়েছে। যাদের দেখভাল করতেন নিহত নছির হাওলাদার। মা হয়েও সন্তানদের খোঁজখবর রাখতেন না জোনাকি।

ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় কাউন্সিলর মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি সকালে আমাকে টেলিফোনের মাধ্যমে জানানো হয়। যেহেতু মারামারির বিষয় আমি তাৎক্ষণিক তাকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেয়ার কথা বলি। সুস্থ হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে বসে সমাধান করে দেয়ার কথা বলি।’

নছির হাওলাদারের মৃত্যুর পর থেকে এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত প্রতিবেশী বিল্লাল প্রধানিয়া ও আবুল বাদশা প্রধানীয়াসহ তাদের পরিবারের লোকজনদের খোঁজ করলেও পাওয়া যায়নি।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সুদীপ্ত রায়, সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুর রশিদসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সুদীপ্ত রায় বলেন, ‘সংবাদ পেয়ে তাৎক্ষণিক আমরা ঘটনাস্থলে যাই। বড় মেয়ের সঙ্গে ঝগড়া ও প্রতিবেশী দুই একজনের সঙ্গে হাতাহাতির বিষয়টি জানতে পেরেছি। আমরা সাক্ষ্য প্রমাণ সংগ্রহ করছি। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

নজরুল ইসলাম আতিক/এসজে/জেআইএম