দেশজুড়ে

দেড় যুগের পরিত্যক্ত ভবনেই ঝুঁকি নিয়ে চলছে ইউপির কার্যক্রম

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার বহুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে কার্যক্রম। যেকোনো সময় ভবনটির ছাদ ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। দেড় যুগ আগে পরিত্যক্ত ঘোষিত এ ভবনে ঝুঁকি নিয়ে ইউপি সচিব কার্যক্রম চালালেও ভয়ে বসেন না চেয়ারম্যান। কার্যালয়ের পার্শ্ববর্তী একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে দৈনন্দিন কাজকর্ম চালাচ্ছেন তিনি।

স্বাধীনতার ৫০ বছরেও বহুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের নতুন ভবন না হওয়ায় জনসাধারণের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, স্বাধীনতার প্রায় ১০ বছর আগে ইউনিয়ন পরিষদের জন্য বহুরিয়া মৌজায় ২৫ শতাংশ জায়গার ওপর তিন কক্ষ বিশিষ্ট একতলা ভবন নির্মাণ করা হয়। যেখানে চেয়ারম্যান, সচিব, হিসাব সহকারী, উদ্যোক্তা কাজ করে থাকেন। এছাড়া একটি হলরুম রয়েছে। প্রায় দেড় যুগ আগে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ৬০ বছর আগে নির্মিত ভবনটির ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে রড বেরিয়ে এসেছে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ইউপি সচিব ও উদ্যোক্তা অফিসের কার্যক্রম চলছে। কার্যালয়ের পাশের ভবনে একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান বসেন। দীর্ঘদিন থেকে এমন অবস্থা চললেও ভবনটি সংস্কার বা ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়নি।

নতুন ভবনের জন্য পরিষদের পক্ষ থেকে উপজেলা প্রকৌশলী অফিসের মাধ্যমে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। কিন্তু ভবনটি ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণ না হওয়ায় ইউনিয়নবাসীর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

বুধিরপাড়া গ্রামের খবির উদ্দিন, বহুরিয়া গ্রামের সম্ভু রাজবংশী, বাতাসি বেগম, আসমা, চান্দু মিয়া, নাজিম উদ্দিন, ভ্যান চালক তাম্বু মিয়া, দিঘুলিয়া গ্রামের মানিক মজুমদার, গেড়ামাড়া গ্রামের মাহমুদুল হাসান, চান্দুলিয়া গ্রামের আবুল বাশার জানান, পাকিস্তান আমলের তৈরি ভবনে ইউনিয়ন পরিষদের কাজকর্ম চালানো হচ্ছে। ভবনটি বর্তমানে এমন অবস্থা হয়েছে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। ডিজিটাল বাংলাদেশে এই পরিষদের ভবনটি বেমানান। ভবনটি ভেঙে নতুন আধুনিক ভবন নির্মাণের দাবি জানান তারা।

ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার ইদ্রিস আলী ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার মো. এমারত হোসেন জানান, দেশের বিভিন্ন সেক্টরে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। কিন্তু বহুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের উন্নয়ন হলো না। ঝুঁকি নিয়ে ভবনটিতে কাজ চলছে।

ইউপি সচিব সঞ্জয় সরকার বলেন, ‘পাঁচ বছর আগে যোগদান করেছি। সে সময় দরজায় কালো রঙ দিয়ে লেখা ছিল পরিত্যক্ত ভবন। এরপরও ঝুঁকি নিয়ে ভবনটিতে অফিসের কার্যক্রম করতে হচ্ছে। মাঝে মধ্যে পলেস্তারা খসে পড়ে। বৃষ্টি হলেই পানি পড়ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভবনটি বর্তমানে এমন অবস্থা হয়েছে সরকারের দেয়া আসবাবপত্র, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, ল্যাপটপ, ইন্টারনেট মেশিন বৃষ্টির পানিতে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। অফিসে যে সময়টুকু থাকতে হয় বারবার ওপরের দিকে তাকাতে হয়। এই ভবন ছাড়া টিনের তৈরি ঘরে অফিসের কার্যক্রম পরিচালনা করা হলেও বেশি নিরাপদ মনে করতাম।’

ইউপি চেয়ারম্যান মো. আব্দুস সামাদ বলেন, ‘নতুন ভবন নির্মাণের জন্য প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছে। সেই প্রস্তাবনা অনুমোদন হবে কি-না তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় আমি ওই ভবনে বসি না। ইউনিয়নবাসীকে সেবা প্রদানে পাশেই একটি কক্ষ ভাড়া নেয়া হয়েছে। সেখান থেকেই দৈনন্দিন কাজকর্ম করছি।’

ইউনিয়ন পরিষদের ঝুঁকিপূর্ণ পরিত্যক্ত ভবনটি ভেঙ্গে আধুনিক একটি ভবন নির্মাণের দাবি জানান তিনি।

উপজেলা প্রকৌশলী মো. আরিফুর রহমান বলেন, ‘পরিষদের ভূমি নিয়ে জটিলতা রয়েছে। পরিষদের চেয়ারম্যান ভূমির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রকৌশল অফিসে জমা দেয়ার পর যাচাই-বাছাই শেষে ভবন নির্মাণের প্রস্তাব পাঠানো হবে।’

এস এম এরশাদ/এসজে/এএসএম