দেশজুড়ে

চাঁদপুরে সাবেক সরকারি কর্মকর্তা খুন, আহত স্ত্রী

চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে সমাজসেবা কার্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুরুল আমিনকে (৭০) খুন করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় তার স্ত্রী কামরুন নাহারও আহত হন। তাকে গুরুতর অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) সকালে উপজেলার নাওড়া গ্রামের রেলক্রসিং সংলগ্ন এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পুলিশ, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কর্মকর্তারা।

পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার সকালে নাওড়া পাটোয়ারী বাড়ি মসজিদের সভাপতি শামছুল আলমের কাছে নুরুল আমিনের মেজো মেয়ে ফোন করে জানান, তার বাবার ফোন বন্ধ। এরপর শামছুল আলম দেখেন নুরুল আমিনের বাড়ির প্রধান ফটকে তালা মারা। পরে ভবনের জানালা দিয়ে নুরুল আলমের স্ত্রীকে আহত অবস্থায় দেখতে পান তিনি। এসময় তার সঙ্গে থাকা মাহফুজ আলম নামের এক যুবক ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিয়ে বিষয়টি জানান।

পরে পুলিশ এসে প্রধান ফটকের তালা ভেঙে আহত কামরুন্নাহারকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় পাঠায়। এদিকে নুরুল আমিনের মরদেহ ভবনের ছাদে পড়ে থাকতে দেখা যায়। মরদেহের মুখে মোজা ও মাথায় কোপের চিহ্ন দেখা যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বুধবার যেকোনো সময় বা তারও আগে নুরুল আলম ও তার স্ত্রীর ওপর হামলা চালানো হয়।

স্থানীয়রা জানান, নুরুল আমিন নাওড়া পাটোয়ারী বাড়ি জামে মসজিদের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। প্রায় সাত-আট বছর আগে বড়ুরা সমাজসেবা কার্যালয় থেকে তিনি অবসর নেন। তার স্ত্রীও একই কার্যালয়ে কর্মরত থেকে ছয় মাস আগে অবসর নেন। তাদের তিন মেয়ে ও এক ছেলে ঢাকায় বসবাস করেন। হামলার সময় তাদের অবিবাহিত ছোট মেয়ে ভাইয়ের বাসায় ছিলেন।

এ বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের বন্ধু শামছুল আলম বলেন, নুরুল আলমের মেজো মেয়ের ফোন পেয়ে দ্রুত তার বাড়িতে যাই ও পুলিশকে জানাই।

নিহতের ছোট মেয়ে মিলি জানান, ২৯ জুন বাবার সঙ্গে শেষ কথা হয়। আমার জন্য ব্যাংক থেকে ৩৫ হাজার টাকা উঠিয়েছেন বলে জানিয়েছিলেন। এরপর থেকে তাকে আর ফোনে পাওয়া যায়নি।

শাহরাস্তি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল মান্নান জানান, প্রাথমিকভাবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা যায়নি।

চাঁদপুর জেলা সহকারী পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) সুদীপ্ত রায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, নিহতের মাথায় আঘাতের চিহ্ন ও মুখে মোজা গুঁজে রাখা ছিল। ছাদের দরজা খোলা ছিল। এ ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

চাঁদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মিলন মাহমুদ বলেন, ‘ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রাথমিকভাবে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারবো।’

নজরুল ইসলাম আতিক/এসএমএম/জিকেএস