কঠোর লকডাউনে সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে চলছে রমিজ কবিরাজের কবিরাজি। সেখানে প্রতিদিন শত শত নারী-পুরুষের ভিড়ে জমছে।
উপজেলার টামটা উত্তর ইউনিয়নের মুড়াগাঁও গ্রামে রমিজ কবিরাজের বাড়িতে প্রতিদিনই দেখা যাচ্ছে এমন দৃশ্য।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ওই বাড়ির মৃত আমির হোসেনের ছেলে রমিজ উদ্দীন (৬০) প্রবাস জীবন কাটিয়ে শেষ বয়সে এসে এলাকায় কবিরাজি করছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, নিজ বাড়ির সামনে ছোট্ট একটি টিনের ঘরের পেছনে সাইনবোর্ড ঝুলানো। আর সেখানে নারী-পুরুষের জটলার মাঝখানে বসে আছেন রমিজ। মানা হচ্ছে না কোনো স্বাস্থ্যবিধি। একে অপরের গা ঘেঁষেই বসে আছেন। এতে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মানুষের মাঝে বাড়ছে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি। যদিও গ্রামের এসব অসহায় হতদরিদ্র মানুষ কোনো কিছুর চিন্তা না করেই রমিজের কাছে চলে আসছেন। তাদের অধিকাংশই আবার পরেননি মাস্ক।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, রমিজ একজন ‘ভণ্ড’ প্রকৃতির লোক। কবিরাজির নামে তিনি অসহায় মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছেন। তার কিছু দালাল রয়েছে। তারা সাধারণ মানুষকে ভুল বুঝিয়ে কবিরাজের কাছে নিয়ে যান। রোগীর কাছ থেকে নেয়া টাকার ভাগও তারা পান।
এলাকাবাসী বলেন, বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা লোকজনের মাধ্যমে শতভাগ করোনাভাইরাস ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা রমিজকে বহুবার বুঝানোর পরও তিনি কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করে এই কাজ করে যাচ্ছেন।
এ বিষয়ে রমিজ উদ্দীনকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, ‘আমি স্বপ্ন যোগে কিছু দাওয়াই পেয়েছি। যা মানুষের মাঝে প্রয়োগ করি। এছাড়া রোগ বুঝে ঝাড়ফুঁক, পানি ও তেল পড়া দেই। আমি কোনো ডিমান্ড করি না। যে যা দেয় আমি তাই গ্রহণ করি।’
করোনার এই পরিস্থিতিতে সরকারের বিধিনিষেধ কেন মানছেন না- এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘লকডাউন মানুষ মানে না। আর আমি মেনে লাভ কি? আমি তো আর মানুষের বাড়ি যাই না। মানুষই আমার এখানে আসে। মানুষকে আমি নিষেধ করলেও তারা আসে। আমি কি করব। তারা আমার কথা শুনে না।’
ইছাপুরা গ্রাম থেকে আসা রোগী কুলসুম বেগমকে বলেন, ‘হুজুরের মোবাইল নম্বরে ফোন দিয়েছি। তিনি আমাকে আসতে বলেছেন।’
কচুয়া উপজেলার আকানিয়া নাছিরপুর গ্রাম থেকে আসা আরেক রোগী মিজানও একই কথা বলেন।
শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিরীন আক্তার বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার জানা নেই। তবে যদি সত্যতা পাই তাহলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
নজরুল ইসলাম আতিক/জেডএইচ/জিকেএস