করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় সারাদেশে চলছে সাতদিনের বিধিনিষেধ। ঠাকুরগাঁওয়ে পঞ্চমদিনও ঢিলেঢালাভাবে চলছে বিধিনিষেধ। শহরের মোড়ে মোড়ে তল্লাশি চৌকি বসানো হলেও মানুষ স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই চলাচল করছে।
সোমবার (৫ জুলাই) সকাল থেকেই শহরের বাইরে চলছে ইজিবাইক, রিকশাসহ সব ধরনের যানবাহন।
সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ঠাকুরগাঁও শহরের বিভিন্ন রাস্তায় যানবাহন ও মানুষের চলাচল দেখা গেছে। মোড়ে মোড়ে যানবাহন থামিয়ে তল্লাশি করছে পুলিশ। তবে স্বাস্থ্যবিধি মানতে ও বিধিনিষেধ কার্যকর করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের সহযোগিতায় বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে।
সরেজমিন দেখা যায়, শহরের কালীবাড়ি বাজারসহ আশেপাশের মোড়ের দোকানপাটগুলোতে মানুষের উপচেপড়া ভিড়। সেখানে সামাজিক দূরত্বের কোনো বালাই নেই। বাজারে আসা অধিকাংশ মানুষের মুখে নেই মাস্ক। মুখে মাস্ক নেই কেন জানতে চাইলে দু-একজন বলেন, ‘মাস্ক পকেটে আছে। বেশি ভিড় দেখলেই পড়বেন।’
স্থানীয়রা জানান, মানুষের মধ্যে নেই সচেতনতা। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে খোলা হচ্ছে দোকান। হাট-বাজারে মাস্ক ছাড়াই ঘুরছেন অনেকে।
ঠাকুরগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। সচেতনা বাড়াতে বিভিন্ন জায়গায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জরিমানা করা হয়েছে।
এদিকে জেলা প্রশাসক (ডিসি) মাহবুবুর রহমান বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে। নিয়মিত টহলের পাশাপাশি সবাইকে সচেতন করতেও চলছে প্রচারণা।
তিনি আরও বলেন, যারা আমাদের ফাঁকি দিয়ে দোকানপাট খুলছে তাদের প্রতিদিনই আমরা জেল-জরিমানা করছি। সবাইকে সচেতন হতে হবে। শুধুশক্তি ও আইন প্রয়োগ করে এ সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। বিধিনিষেধের সঙ্গে সঙ্গেই সংক্রমণ কমে যাবে না, সময় লাগবে। তবে বিধিনিষেধ অব্যাহত থাকলে আমরা অবশ্যই কাঙ্খিত ফলাফল পাবো।
উল্লেখ্য, এ পর্যন্ত জেলায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ৩ হাজার ৭৩৫ জনের। এদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ২ হাজার ২৬১ জন। আর করোনায় মারা গেছেন ৯৪ জন।
তানভীর হাসান তানু/এসএমএম/এমকেএইচ