দেশজুড়ে

কাদের মির্জার বিচার চেয়ে বাদলের আবেগঘন স্ট্যাটাস ভাইরাল

নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা ও তার সহযোগীদের বিচার চেয়ে হাসপাতালের বেডে শুয়ে আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন কোম্পানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল।

মঙ্গলবার (৬ জুলাই) সকালে মিজানুর রহমান বাদল তার নিজের ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিলে তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। বিকেল পৌনে ৫টা পর্যন্ত স্ট্যাটাসটি লাইক করেন এক হাজার ৫০০ জন, কমেন্ট করেন ৬১০ জন ও শেয়ার করেন ৪২১ জন।

মিজানুর রহমান বাদল ১২ জুন সকালে বসুরহাট বাজারে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়ে বর্তমানে ঢাকার ট্রমা সেন্টারে চিকিৎসাধীন।

স্ট্যাটাসে তিনি লিখেন, ‘আমার ওপর হামলার ঘটনায় সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা দায়ী। গত ২৪ দিনেও এর বিরুদ্ধে থানায় মামলা নেয়া হয়নি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’

তিনি আরও লিখেন, ‘প্রয়োজনে গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবেন এবং নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের আওয়ামী লীগের তৃণমূলের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে বাঁচতে দিন, আমরা বাঁচতে চাই।’

বাদল উল্লেখ করেন, ‘১৯৭৫ সালের ১২ জুন আমার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম সিরাজুল আলম চৌধুরীকে শুধু আওয়ামী লীগ করার অপরাধে গণবাহিনী নৃশংসভাবে হত্যা করে। আজ আমার পিতৃতুল্য বড় ভাই সলিমুল্লাহ চৌধুরী টেলু মরণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত, ছোট ভাই রহিমুল্লাহ বিদুৎও দীর্ঘদিন ধরে কিডনি রোগে আক্রান্ত।’

আক্রমণের বর্ণনা দিয়ে বাদল লিখেন, ‘হিংস্র হায়েনাদের মতো আমার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে আমার ডান হাতে তিনটি অংশ, দুই পায়ের হাড়ের কয়েকটি অংশ ও বুকের পাঁজরের তিনটি হাড় ভেঙে দেয়। এরপর তারা আমার পুরো শরীরের ওপর আঘাত করতে থাকে এবং আমার মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য কানের উপরের অংশে ও মাথার বাম পাশে হাতুড়ি এবং দেশীয় অস্ত্র দিয়ে প্রচণ্ড আঘাত করে। ফলে আমার কান ও মাথা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’

এদিকে মামলা না নেয়ার বিষয়ে জনাতে চাইলে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন আনোয়ার জাগো নিউজকে বলেন, ‘এজাহারে আসামির তালিকা দীর্ঘ হওয়ায় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

উল্লেখ্য, গত ১২ জুন (শনিবার) সকালে বসুরহাট বাজারে প্রধান সড়কের ইসলামী ব্যাংকের সামনে মেয়র আবদুল কাদের মির্জার নেতৃত্বে প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদলের (৫০) ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। এ সময় তাকে মারধর ও গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। পরে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়।

ইকবাল হোসেন মজনু/এসজে/এমকেএইচ