ময়মনসিংহ জেলার গৌরিপুর থানার চান্দের সাটিয়া গ্রামের আব্দুল রশিদের ছেলে মো. রফিকুল ইসলাম ১৩ বছর পর ফিরে পেয়েছেন তার নিজ পরিবার। আর এটা সম্ভব হয়েছে রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেনের সহযোগিতায়।
বুধবার (৭ জুলাই) রফিকুলকে আনুষ্ঠানিকভাবে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে রাজবাড়ী জেলা পুলিশ। রাজবাড়ী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেন জেলা পুলিশ সুপার এম এম শাকিলুজ্জামান।
স্ত্রীসহ পরিবারের লোকজন রাজবাড়ী থানায় এসে ১৩ বছর আগে হারিয়ে যাওয়া মো. রফিকুল ইসলামকে ফিরে পেয়ে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এ সময় তাকে পরিবারের কাছে তুলে দেন ওসি মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন।
জানা যায়, মো. রফিকুল ইসলাম ২০০৮ সালে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে পরিবার-পরিজন ছেড়ে বিভিন্ন জেলা শহর ও হাটবাজারে ঘোরাঘুরি করে বেড়াতেন। লোকজন কখনো পাগল কখনো ভিক্ষুক ভেবে কলা, রুটি বা খাবারের উচ্ছিষ্ট অংশ দিলে তা খেয়েই তিনি জীবনযাপন করেন।
গত ৪ জুলাই রাজবাড়ী থানার বসন্তপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এভাবে ঘোরাফেরা করার সময় সদর থানার ওসি মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন তাকে দেখতে পান। এরপর ওসির নির্দেশে রাজবাড়ী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মনিরুজ্জামান তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে নাম ঠিকানা জানতে চান। এ সময় রফিকুল কেবল তার এলাকার সাবেক এক চেয়ারম্যানের নাম, জেলার নাম আর থানার নাম গৌরীপুর বলতে পারেন।
পরবর্তীতে রাজবাড়ী সদর থানার ওসি গৌরিপুর থানা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে রফিকুলের ছবি পাঠালে তার সঠিক নাম-ঠিকানা জানা যায়। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তার স্ত্রী মোছা. আইরিন রফিকুলকে চিনতে পারেন। পরে স্ত্রীসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা রাজবাড়ীতে এসে রফিকুলকে নিয়ে যান।
রফিকুলকে হস্তান্তরকালে উপস্থিত ছিলেন- রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) মো. সালাহউদ্দিন, সহকারী পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শেখ শরীফ-উজ-জামান, সহকারী পুলিশ সুপার (পাংশা সার্কেল) সুমন কুমার সাহা, সদর থানার ওসি মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন, কালুখালী থানার ওসি মো. নাজমুল হাসান, ডিআইও-১ সাইদুর রহমান, জেলা গোয়েন্দা শাখার ওসি প্রাণবন্ধু চন্দ্র বিশ্বাস প্রমুখ।
এন কে বি নয়ন/এমআরআর/এএসএম