ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরে আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে নালিশা ভূমিতে বহুতল ভবন নির্মাণের নকশা অনুমোদন দিয়েছে পৌরসভা। ওই জমিতে বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন এক প্রভাবশালী।
এ বিষয়ে বুধবার (৭ জুলাই) ভূমির মালিক স্বপ্না সাহা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে লিখিত একটি অভিযোগ দিয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পৌর এলাকার পূর্ব পাইক পাড়ার বাসিন্দা গৌর চন্দ্র সাহার স্ত্রী স্বপ্না সাহার মালিকাধীন সাড়ে পাঁচ শতক ভূমি নিয়ে প্রতিপক্ষ একই এলাকার মৃত যতীন্দ্র সাহার ছেলে গৌর সাহার (৪০) সঙ্গে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। এ নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালতে মামলা চলমান।
এদিকে নালিশা ভূমিতে প্রতিপক্ষ গৌর সাহা ২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর জোরপূর্বক নির্মাণকাজ করতে গেলে স্বপ্না সাহা বাধা দেন। এ সময় তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন। ১৪ অক্টোবর ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানায় তিনি অভিযোগ দেন। একই বছরের ২৫ নভেম্বর আদালত নালিশা ভূমিতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
এ বিষয়ে স্বপ্না সাহা অভিযোগ করে বলেন, ‘আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও গৌরসাহা সম্পূর্ণ অন্যায় ও বেআইনিভাবে নালিশা ভূমিতে জোরপূর্বক নির্মাণকাজ অব্যাহত রেখেছেন। বিষয়টি বিভিন্ন সময়ে সদর থানার পুলিশকে অবহিত করলেও রহস্যজনক কারণে আদালতের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে পুলিশ কোনো উদ্যোগ নেয়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘বুধবার এ ব্যাপারে পুলিশ সুপারের কার্যালয়েও অভিযোগ দিয়েছি।’
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত গৌর সাহা বলেন, ‘জায়গাটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আদালতে মামলা চলছে। এরই মধ্যে আমি আদালত থেকে তিনটি রায় পেয়েছি। আমার আইনজীবীর পরামর্শে পৌরসভা থেকে নকশা অনুমোদন করিয়ে নির্মাণকাজ করছি।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী কাউছার আহমেদ বলেন, ‘মামলা চলমান থাকা অবস্থায় বিরোধপূর্ণ ভূমিতে কেউ নির্মাণকাজ করতে পারে না। খোঁজ নিয়ে কাজ বন্ধ করে দেয়া হবে।’
নির্মাণকাজে পৌরসভা থেকে কোনো নকশা অনুমোদন করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ফাইলপত্র না দেখে এই মুহূর্তে এ বিষয়ে কিছু বলতে পারব না।’
এ ব্যাপারে স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর (৪ নং ওয়ার্ড) মিজানুর রহমান আনসারী বলেন, ‘জায়গাটি নিয়ে আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকার বিষয়টি তার জানা নেই। পৌরসভা থেকে নকশা অনুমোদন করেই গৌরসাহা ভবন নির্মাণ করছেন। স্বপ্না সাহা যদি আদালতের নিষেধাজ্ঞার কাগজপত্র দেখাতে পারেন তাহলে তার নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়া হবে।’
এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমরানুল ইসলাম বলেন, ‘এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগ পেয়ে থানার এক উপপরিদর্শককে বিষয়টি দেখার জন্য দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। জায়গা-সম্পত্তি নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে একাধিক মামলা মোকদ্দমা চলমান। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও উভয় পক্ষকে নিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করার চেষ্টা করছেন।’
আবুল হাসনাত মো. রাফি/এসজে/জেআইএম