ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার সবচেয়ে বড় গরুটির নাম রাখা হয়েছে ‘হীরা মানিক’। ওজন ৩৮ মণের বেশি। গাড় কালো রঙের ৪ বছর ১০ মাস বয়সী ষাঁড়টির দৈর্ঘ্য ১০ ফুট আর উচ্চতা ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি। উপজেলার মতিগঞ্জ ইউনিয়নের রিয়াজ উদ্দিন চৌধুরীর খামারে পালিত এ গুরুর দাম হাঁকা হচ্ছে ৩০ লাখ টাকা।
এবারের কোরবানির ঈদে বিক্রির খবর ছড়িয়ে পড়ায় গরুটি দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে আসছেন দর্শনার্থী ও ক্রেতারা। অনলাইনে চৌধুরীর খামারের ৩২টি গরু বিক্রির ছবি দেয়া হলে সেখানেও ক্রেতাদের আগ্রহ হীরা মানিককে নিয়ে। কিন্তু ন্যায্য দাম কেউ বলছে না। এ অবস্থায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন খামারি।
খামারি রিয়াজ উদ্দিন চৌধুরী জানান, ২০১৬ সালে কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে জন্ম নেয়া ষাঁড়টিকে দেশীয় পদ্ধতিতে মোটাতাজা করা হয়েছে। ষাঁড়টিকে প্রতিদিন কাঁচা ঘাস, খড়, গমের ভুসি, চালের কুঁড়া, ভুট্টা, ডালের গুঁড়া, খৈল, ছোলা ও খুদের ভাত এবং সম্পূরক কিছু খাবারসহ অন্তত ৫০ থেকে ৬০ কেজি খাবার দিতে হয়।
তিনি আরও জানান, বর্তমানের তার খামারে ৩২টি গরু রয়েছে। এর মধ্যে ৩ বছর বয়সী ১৮ মণ ওজনের একটি ব্রাহমা জাতের সাদা-কালো রঙের ষাঁড় রয়েছে। এটি ১৫ লাখ টাকা বিক্রির প্রত্যাশা তার।
রিয়াজ উদ্দিন জানান, অনলাইনে তার খামারের গরুগুলোর ছবি ও বর্ণনা দিয়ে প্রচারণা চলছে। সেখানে দেশের বিভিন্নস্থানের ক্রেতারা দরদামও করছেন। কিন্তু কেউ প্রত্যাশিত দাম বলছেন না। লকডাউন শিথিল হলে গরুগুলো বিক্রির জন্য চট্টগ্রামের সাগরিকা বাজার অথবা ঢাকার কোনো হাটে তোলার পরিকল্পনা করছেন তিনি।
সোনাগাজী উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা কল্লোল বড়ুয়া জানান, খামারি রিয়াজ বিভিন্ন সময় প্রাণি সম্পদ বিভাগ থেকে গুরুগুলোর বিষয়ে পরামর্শ নিয়ে থাকেন। তার খামারে পালিত ফ্রিজিয়ান জাতের ষাঁড়টি উপজেলার সবচেয়ে বড় গরু। রিয়াজের খামারের উন্নত জাতের গরুগুলো সঠিক মূল্যে বিক্রির জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা দেয়া হচ্ছে।
নুর উল্লাহ কায়সার/এসজে/এএসএম