যমুনা নদী পারাপারের জন্য পাবনার কাজীরহাট ফেরিঘাট এলাকায় অপেক্ষমাণ ট্রাকচালকদের একটি অংশ বিক্ষোভ করেছেন। তাদের অভিযোগ, নিয়ম ভেঙে ফেরিতে ব্যক্তিগত গাড়ি ও মাইক্রোবাস ওঠানো হলেও ট্রাক পারাপারের সুযোগ দেয়া হচ্ছে না। প্রতিবাদে তারা আড়াআড়ি ট্রাক রেখে ঘাটের প্রবেশমুখ বন্ধ করে দেন।
শনিবার (১৭ জুলাই) রাত ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
কাজীরহাটে ট্রাক নিয়ে অপেক্ষমাণ চালক মগরেব আলী জানান, তিনি সোনা মসজিদ থেকে তিন দিন আগে এসে ঘাটে বসে আছেন। তার ট্রাকে ধানের কুড়া আছে।
তিনি আরও জানান, সোনা মসজিদ থেকে ট্রাকে ভুট্টা নিয়ে এসেছেন শুকুর ও উজ্জ্বল, এনামুল নিয়ে যাচ্ছেন গম। তাদের মতো অসংখ্য চালক পণ্য বোঝাই ট্রাক নিয়ে তিন-চার দিন ধরে ঘাটে পড়ে আছেন।
ঘাট পারাপারে অনিয়মের অভিযোগ করে তারা বলেন, ‘গরু বোঝাই ট্রাকগুলো আগে যাচ্ছে। সেগুলোর সাথে কিছু প্রাইভেট কার এবং মাইক্রোবাসকেও যেতে দেয়া হচ্ছে। কিন্তু অন্য পণ্যবাহী পরিবহনকে সিরিয়াল দেয়া হচ্ছে না।’
কাজীরহাট ফেরিঘাট থেকে প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানান, রাত ৯টার দিকে বেশ কয়েকজন বিক্ষুব্ধ ট্রাকচালক ঘাট এলাকায় বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা ফেরিঘাটের প্রবেশমুখে আড়াআড়ি ট্রাক রেখে যান চলাচলে বাধার সৃষ্টি করেন। পরে আমিনপুর থানার পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিসি কাজীরহাটের ম্যানেজার মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘পশুবাহী ট্রাকের জন্য কাজীরহাট ঘাটে প্রায় ৫০০ ট্রাকের জট সৃষ্টি হয়েছে। ফেরির ট্রিপ সংখ্যা বাড়লে যানজট কমে যাবে।’
তিনি জানান, ‘আরিচা-কাজীরহাট রুটে এখন তিনটি ফেরি চলাচল করছে। একটি ফেরি নষ্ট হওয়ায় গত এক মাস ধরে সেটি চলছে না।’
মাহবুবুর রহমানের ভাষ্য, ‘ফেরি দ্রুতই লোড-আনলোড হচ্ছে। তারপরেও যানজট থেকেই যাচ্ছে। কুরবানির ঈদ তাই পশুবাহী গাড়িগুলোকে আগে যেতে দিতেই হচ্ছে। একে তো কুরবানির হাট তার ওপর প্রাণিগুলোর কষ্টের কথাও ভাবতে হচ্ছে।’
তিনি দাবি করেন, ‘ঘাটে যেসব পণ্যবাহী ট্রাক আছে সেগুলোতে পচনশীল কোনো দ্রব্য নেই। দীর্ঘ অপেক্ষার জন্য কিছু ট্রাক চালক ক্ষুব্ধ হয়েছেন। বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।’
এ বিষয়ে আমিনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রওশন আলী জানান, তিনিসহ থানা পুলিশের দুটি টিম ঘাট এলাকায় অবস্থান করছে। তারা শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার বিষয়টি দেখভাল করছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
আমিন ইসলাম/এসএস