দেশজুড়ে

ফেনীতে অনলাইনে বিক্রি হয়েছে দেড় হাজার কোরবানির পশু

চলতি মৌসুমে ফেনীতে অনলাইনে ১ হাজার ৫১৩টি কোরবানির পশু বিক্রি হয়েছে। এরমধ্যে ১ হাজার ২০০টি গরু ও ৩১৩টি ছাগল রয়েছে। তবে গত কয়েকদিন উন্মুক্তস্থানে পশুর হাট বসায় এখন অনলাইনে বিক্রি কমে গেছে।

সোমবার (১৯ জুলাই) জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

জানা যায়, চলমান বিধিনিষেধে উন্মুক্তস্থানে হাট বসার সম্ভাবনা কমে থাকায় জেলার অনেক খামারি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও ইউটিউবে নিজেদের খামারের নামে আইডি, পেজ ও চ্যানেল তৈরি করে প্রচারণা শুরু করেন। শুরুর দিকে ক্রেতাদের অনলাইনে প্রদর্শিত এ পশুগুলোর দিকে ঝোঁক ছিল। অনেক ক্রেতা অনলাইনে গরু দেখে সরাসরি খামারে গিয়ে কোরবানির পশু ক্রয় করেছেন। তবে হাট বসানোর অনুমতি পাওয়ার পর থেকে এখন সবাই সেখানে গিয়েই কোরবানির পশু কেনা শুরু করেছেন। এতে ক্রেতা-বিক্রেতাদের অনলাইনে নির্ভরশীলতা কমেছে।

ফেনী সদর উপজেলার বালিগাঁও ইউনিয়নের আফতাব বিবি গ্রামের সিটি এগ্রো ফার্মের সত্ত্বাধিকারী আবদুল ওহাব ভূঞা রিয়াদ জানান, মূলত অনলাইনে গরু বিক্রি হচ্ছে না। অনলাইনে ক্রেতারা কোন খামারে কী ধরনের গরু রয়েছে? -তা জানতে চায়। পরে দুই-একটি পছন্দ করে খামারে এসে দরদাম করে কোরবানির পশু কিনছেন। তবে সরাসরি খামারি থেকে পশু কিনলে কোনো প্রকারের হাসিল দিতে হয় না। পালনের অসুবিধার কারণে অনেকেই গরু কিনে ঈদ পর্যন্ত খামারেই পশু রেখে যাচ্ছেন। তবে হাট বসার সুযোগ হওয়ায় এখন খামারি-ক্রেতারা সবাই বাজারমুখী হয়ে উঠেছেন।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. মো. আনিসুর রহমান জানান, ফেনীতে অন্তত দুই হাজার খামার ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে পালিত ৮০ হাজার কোরবানির বিক্রিযোগ্য পশু রয়েছে। এর বিপরীতে ফেনীতে কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ৭২-৭৫ হাজার। সোমবার পর্যন্ত ফেনীর বিভিন্ন খামার থেকে অনলাইনে অন্তত ১ হাজার ২০০টি গরু ও ৩১৩টি ছাগল বিক্রির হয়েছে। তবে এখন হাট বসায় ক্রেতা-বিক্রেতারা অনলাইন বাদ দিয়ে সরাসরি পশু কেনাকাটা করছেন।

জেলা প্রশাসক (ডিসি) আবু সেলিম মাহমুদ উল হাসান জানান, ফেনীতে স্বাস্থ্যবিধি মানার শর্তে ১১১টি পশুর হাট বসানোর অনুমতি দেয়া হয়েছে। এছাড়াও বৃহস্পতিবার সকালে অনলাইনে পশু বিক্রির একটি নতুন প্ল্যাটফর্ম পশুরহাট ফেনী নামের একটি ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপের উদ্বোধন করা হয়েছে। এখন ফেনীর মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মেনে হাট থেকে বা ঘরে বসে অনলাইন থেকে পশু কিনতে পারবেন।

নুর উল্লাহ কায়সার/এসএমএম/এএসএম