দেশজুড়ে

নিষেধাজ্ঞা শেষে কলাপাড়ায় চলছে মাছ ধরার প্রস্তুতি

বঙ্গোপসাগরে ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে মাছ ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন পটুয়াখালীর কলাপাড়ার উপকূলীয় এলাকার জেলেরা। জাল, নৌকা ও ট্রলারের ইঞ্জিনসহ অন্যান্য সরঞ্জাম প্রস্তুত করছেন উপকূলের প্রায় বিশ হাজার জেলে।

সরজমিনে দেখা যায়, উপজেলার মহিপুর, আলীপুর মৎস্য বন্দর, চাপলী বাজার ও কুয়াকাটাসহ উপকূলীয় বেশ কিছু পাড়ায় জাল বুনছেন জেলেরা। অন্যদিকে কেউ ট্রলারে রঙ দিচ্ছেন। নতুন করে নৌকা তৈরি এবং পুরাতন নৌকা ও ট্রলার মেরামত করছেন কেউ।

উপকূলীয় অঞ্চলের ট্রলার মাঝি কামাল হোসেন বলেন, ‘দুই মাস নদীতে মাছ ধরতে যাইনি। বেকার বসে ছিলাম। বাড়িতে অসুস্থ রোগী রয়েছে। এ কয়েকদিনে অনেক টাকা দেনা হয়েছি। এখন মাছ ধরার শুরু হবে এ জন্য ট্রলার মেরামত করছি। নদীতে গিয়ে ইলিশ মাছ ধরে দেনা পরিশোধ করবো।’

মৎস্য বন্দর মহিপুর ঘাটে জাল বুনছেন জেলে আসলাম। তিনি বলেন, ‘একদিকে করোনা, অন্যদিকে নদীতে মাছ ধরা বন্ধ থাকায় বেকার সময় কাটাই। আমার মতো অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। তবে দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে এখন আবার মাছ ধরায় কর্মব্যস্ত হয়ে পড়বেন তারা। সেই সঙ্গে সংকট কাটানোর চেষ্টা করবেন।’

শিববাড়িয়া নদীর তীরে ট্রলার মেরামত করতে করতে এফ বি এলমা ট্রলারের মাঝি আবদুল মালেক বলেন, ‘বঙ্গোপসাগরে দুই মাস মাছ শিকার বন্ধ ছিল। জেলেরা অপেক্ষায় ছিলেন কখন মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা শেষ হবে আর কখন তারা নদীতে নামবেন। অবশেষে সেই প্রতীক্ষার পালা শেষ হয়েছে।’

কলাপাড়া উপজেলা মাঝি সমিতির সভাপতি আবদুল মন্নান বলেন, ‘দুই মাস নদীতে যেতে পারেনি জেলেরা। আগামী ২৪ জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে ইলিশ ধরা। এলাকার মাঝিরা এখন নদীতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।’

আলীপুর মৎস্য বন্দরের আড়ৎদার আয়নাল খান বলেন, ‘এই ৬৫ দিন সমুদ্রে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা ছিল। জেলে, মাঝি, আড়ৎদার সবাই ধার-দেনা করে জীবন চালাচ্ছি। এখন জেলেরা নদীতে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। মাছ ধরার শুরু হলে জেলেদের পাশাপাশি মৎস্য আড়ৎদাররাও লাভের মুখ দেখতে পাবেন।’

কলাপাড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, ‘গত ২০ মে থেকে শুরু হয়েছে সমুদ্রে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা, চলবে আগামী ২৩ জুলাই পর্যন্ত। এ উপজেলার বেশীরভাগ জেলে সরকারের নির্দেশনা মেনে সমুদ্রে মাছ শিকার থেকে বিরত ছিল।’

আরএইচ/এমএস