আইন-আদালত

‘মুখোশধারীদের খুঁজে বের করতে পরীমনিকে রিমান্ডে নেয়া প্রয়োজন’

‘সরকার যেখানে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছে, সেখানে পরীমনির বাসায় মাদক পাওয়া গেছে। দেশে যারা ভদ্র মুখোশধারী রয়েছেন তাদের খুঁজে বের করতে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন রয়েছে।’ রিমান্ড শুনানি চলাকালে এসব কথা বলেন ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আব্দুল্লাহ আবু।

Advertisement

বৃহস্পতিবার (৫ আগস্ট) রাত ৮টা ২৮ মিনিটে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে পরীমনিকে হাজির করা হয়। এরপর মাদক মামলায় তাকে সাত দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বনানী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ সোহেল রানা।

অপরদিকে, পরীমনির আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম মামুনুর রশীদ তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

শুনানিতে আব্দুল্লাহ আবু বলেন, ‘মামলার আসামি পরীমনির বাসায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করা হয়েছে। যার বাজারমূল্য ২ লাখ ১১ হাজার ৫০০ টাকা। এই মাদক কোথা থেকে আসল? তার উৎস কী? কে এই মাদক পাঠাল? মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে রিমান্ডে নেয়া প্রয়োজন।’

Advertisement

এদিকে রিমান্ড শুনানি চলাকালে পরীমনির আইনজীবী নীলঞ্জনা রিফাত সুরভি বলেন, ‘পরীমনি ষড়যন্ত্রের শিকার। তার বাসায় কোনো মদ পাওয়া যায়নি। তার বাসা থেকে যে সাড়ে ১৮ লিটার মদ জব্দ দেখানো হয়েছে সেটি তার বাসায় ছিল না। তার বাসায় কিছু খালি মদের বোতল ডেকোরেশন পিস হিসেবে রাখা ছিল। সেগুলোকে জব্দ তালিকায় দেয়া হয়েছে। এছাড়া তার কাছে কোনো আইস এবং এলএসডি ছিল না। আমরা তার জামিন চাই।’

এ আইনজীবী আরও বলেন, ‘এই মামলায় পরীমনিকে হয়রানির পেছনে রয়েছে আগের একটা দ্বন্দ্ব (নাসিরের বিরুদ্ধে মামলা)। তার মানসম্মান নষ্টের জন্যই এই মামলা। এরকম স্বনামধন্য একজন নায়িকার মানসম্মান যাতে ক্ষুণ্ন না হয়, সেজন্য রিমান্ড না মঞ্জুর করা প্রয়োজন। তাকে জামিন দেয়া উচিত।’

এর আগে, এজলাসে আসার সঙ্গে সঙ্গে পরিমনির এক আইনজীবী তাকে জড়িয়ে ধরে কোলাকোলি করেন। এ নিয়ে আদালতে হৈ চৈ শুরু হয়। ঢাকা মহানগর হাকিম মামুনুর রশীদ এজলাসে ওঠার পর পরীমনির পক্ষে আদালতে লড়তে ওকালতনামায় স্বাক্ষর করা নিয়ে আইনজীবীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। কে পরীমনির পক্ষে ওকালতনামা দেবেন তা নিয়ে শুরু হয় ‘তর্কবিতর্ক’। এক পর্যায়ে ঢাকা মহানগর হাকিম মামুনুর রশীদ এজলাস ত্যাগ করেন। 

এজলাস ত্যাগের আগে আইনজীবীদের উদ্দেশে বিচারক বলেন, ‘আগে আপনারা ঠিক করেন, কে আসামি পরীমনির আইনজীবী হবেন। তারপর শুনানি হবে।’

Advertisement

এরপর পরীমনি ঈশারা করে আইনজীবী নীলঞ্জনা রিফাতকে তার আইনজীবী নিয়োগ করেন। পরে আবার এজলাসে আসেন ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম মামুনুর রশীদ। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে পরীমনির চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। শুনানির পুরো সময় পরীমনি চুপচাপ ছিলেন। পরে রাত ৯ টা ৮ মিনিটের দিকে তাকে আদালত থেকে বের করে ডিবি কার্যালয় নিয়ে যায় পুলিশ।

বৃহস্পতিবার বিকেলে আলোচিত নায়িকা পরীমনি ও প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে র‍্যাব বাদী হয়ে পৃথক দুটি মামলা করে।

বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে র‍্যাব সদর দফতর থেকে কালো একটি মাইক্রোবাসে তাদের বনানী থানায় নেয়া হয়। পরে তাদের বনানী থানায় হস্তান্তর করে র‌্যাব।

জেএ/এসজে