শিক্ষা

তদন্তেই আটকে আছে ভিকারুননিসাকাণ্ড

তদন্তেই আটকে আছে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ কামরুন নাহারের সঙ্গে অভিভাবক মীর সাহাবুদ্দিন টিপুর ফাঁস হওয়া ‘ফোনালাপের’ ঘটনা। নির্ধারিত তিন কার্যদিবস পার হলেও মন্ত্রণালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দেয়া হয়নি। সময় আরও তিন দিন বাড়ানোর আবেদন করলেও এখনো কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। ফলে কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন কবে দেয়া হবে তা অনিশ্চিত।

Advertisement

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২৮ জুলাই ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ কামরুন নাহার ও অভিভাবক ফোরামের উপদেষ্টা মীর সাহাবুদ্দিন টিপুর ফাঁস হওয়া ফোনালাপের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (নিরীক্ষা ও আইন) খালেদা আক্তারকে সভাপতি করে দুই সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অপর সদস্য হলেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের পরিচালক (মাধ্যমিক) মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন।

গঠিত তদন্ত কমিটিকে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। এরপর গত ৩ আগস্ট তদন্ত কমিটির কাজ শেষ করতে আরও তিন দিন সময় বাড়াতে লিখিতভাবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আবেদন জানানো হয়। যদিও এখনো সময় বাড়ানোর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার (৩ আগস্ট) নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তদন্ত কমিটির একজন বলেন, ‘তদন্তকাজ শেষে বর্তমানে প্রতিবেদন তৈরি করা হচ্ছে। রেকর্ড করা অডিওটি আসল নাকি এডিট করা তা যাচাই করতে অভিজ্ঞদের কাছে পাঠানো হয়েছে। সেটি এলে চূড়ান্তভাবে প্রতিবেদন ও সুপারিশ তৈরি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হবে।’

Advertisement

তিনি আরও বলেন, ‘কমিটির মেয়াদ তিনদিন হলেও টেকনিক্যাল কারণে সময় বাড়ানোর জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবের দফতরে আবেদন করা হয়েছে।’

এ বিষয়ে সচিব মো. মাহাবুব হোসেন বলেন, ‘কমিটির মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে আলাপ-আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক একজন অতিরিক্ত সচিব বলেন, ‘ভিকারুননিসা নুন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিষয়টি অতি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। এর আগে শিক্ষা ক্যাডারের ফওজিয়া নামে একজনকে অধ্যক্ষ পদে বসানো হলেও নানা ধরনের অনিয়মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়লে তাকে সরিয়ে আরেক শিক্ষা ক্যাডারের শিক্ষককে বসানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া না গেলেও অশ্লীলভাষার ফোনালাপ ফাঁস হয়েছে।

বর্তমানে এটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক ধরনের ইমেজ নষ্ট হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এ কারণে এটি গোপনীয়ভাবে সমাধান করার চেষ্টা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ কারণে তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দিতে বিলম্ব করছে।’

Advertisement

তবে ভিকারুননিসার অধ্যক্ষ কামরুন নাহার জানান, তিনি কাউকে গালিগালাজ বা হুমকি দেননি। কিছু অভিভাবক তার কাছে অনৈতিক সুবিধা চেয়ে ব্যর্থ হওয়ায় তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। অধ্যক্ষ পদ থেকে তাকে সরাতে নানাভাবে চেষ্টা করা হচ্ছে। এ কারণে তার সঙ্গে একজন অভিভাবকের কথা হলে তিনি সেটি ‘সুপার এডিট’ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছেন।

এমএইচএম/এসজে