গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে এলজিইডি ও জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) অর্থায়নে বড়দহ সেতু থেকে ত্রিমোহনী সেতু পর্যন্ত ৫.৩ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম ও জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। জোর করে সরকারি জায়গা ব্যবহার না করে ব্যক্তি মালিকানাধীন ৪ বিঘা জমির উপর দিয়ে বাঁধ নির্মাণ করছে বড়দহ পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি।
এ কাজে ভুক্তভোগী কৃষককে স্থানীয় সংসদ সদস্যের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বাঁধ নির্মাণ স্থগিত চেয়ে অনিয়ম তদন্ত করতে বৃহস্পতিবার বিকেলে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক ও এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার তালুক সোনাইডাঙ্গা গ্রামের ভুক্তভোগী কৃষক ময়েন উদ্দিন ।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, এলজিইডি ও জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) অর্থায়নে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা বড়দহ পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির মাধ্যমে কাটাখালি নদীর তীরে ভূমি নশকা/ম্যাপ অনুযায়ী সরকারি রাস্তার ওপর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। ৫.৩ কিলোমিটার এই বাঁধ নির্মাণে সরকারি জায়গা ব্যবহার করার কথা থাকলেও এক জায়গায় সরকারি জায়গা নিচু হওয়ায় ব্যক্তি মালিকানার জমি দিয়ে বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে ভুক্তভোগী ময়েন উদ্দিন আকন্দের ৪ বিঘা জমির ক্ষতি হয়েছে, যার মূল্য প্রায় ৪০ লাখ টাকা।
ওই কৃষক অভিযোগ করেছেন, বড়দহ পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির সভাপতি সজিব আকন্দ, সাধারণ সম্পাদক মো. নওসা মিয়া, হরিরামপুর ইউপির সাবেক মেম্বার মো. আব্দুল ওয়াহেদ মিয়া, স্থানীয় যুবক মো. বিপুল আকন্দ, মো. সাদা মিয়া ও মো. ফিরোজুল ইসলাম ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজির মিথ্যা মামলা দেয়ার হুমকি এবং নির্মাণাধীন বাঁধের বিল তোলার আগে আইনের আশ্রয় নিলে তাকে প্রাণে মারার হুমকি দেয়।
ময়েন উদ্দিন জাগো নিউজকে জানান, শনিবার (১ আগস্ট) বিকেলে শাহরিয়ার কবিরের নেতৃত্বে ২০-২৫ জন মিলে আমার রেকর্ডকৃত জমি দখল করে। জমি দখলের দুই দিন পর শতাধিক সন্ত্রাসীসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সন্ত্রাসী কায়দায় মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে মেশিন দিয়ে মাটি কাটতে শুরু করে। আমি ও পরিবারের সদস্যরা বাধা দিলে আমাদের হত্যার চেষ্টা করে। বাড়ি ঘিরে রাখে। তারা ভোর পর্যন্ত মাটি তুলে আমার জমির ওপর দিয়ে বাঁধ নির্মাণ কাজ শেষ করে।
এ বিষয়ে গাইবান্ধা- ৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মনোয়ার হোসেন চৌধুরীর ভাই লিটন চৌধুরীর সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, ‘আমাদের নাম ব্যবহার করে অন্যায় কাজ করবে কেন? আমরা কি জড়িত নাকি? পানি ব্যবস্থাপনা কমিটি কাজ করে। আমরা সার্বিক সহযোগিতা করি। এছাড়া আর কিছু না।’
অভিযোগের তদন্ত বিষয়ে গাইবান্ধা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আহসান হাবিব জানান, ‘অভিযোগটি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
জাহিদ খন্দকার/এমএইচআর/এমএস