দেশজুড়ে

উপকারী সেচ প্রকল্পটি এখন দুর্ভোগের কারণ!

বৃষ্টির পানি জমে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ইরিগেশন প্রজেক্ট চাঁদপুরের মতলব উত্তর মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের কয়েক হাজার হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। পানি নিষ্কাশনে ব্যবহৃত খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাটসহ ডুবে গেছে অনেক বাড়ির আঙিনাও। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সেখানে বসবাসরত কয়েক হাজার মানুষ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত প্রকল্পের আওতাধীন খালগুলো পুনঃখনন ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে সমস্যা সমাধান করা হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৮৭-৮৮ সালে মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্প নির্মাণ হয়। কৃষকদের উপকারে সেচ প্রকল্পটি নির্মাণ করা হলেও এখন তা কৃষকদের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এবছর বৃষ্টির পানিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় সেচ প্রকল্পের অভ্যন্তরে কয়েকটি এলাকার প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমির সদ্য রোপা আমন ও বীজতলা, কলার বাগান, আখ, ফল ও কাঠ গাছের বাগান নষ্ট হয়ে গেছে।

এছাড়া অনেক মৎস্য খামার তলিয়ে গেছে। এতে লাখ লাখ টাকা লোকসানের মুখে পড়েছেন খামারিরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জোড়খালী, বারআনী, ঘনিয়ারপাড়, ওঠারচর, পাঁচআনী, মাথাভাঙা, হানিরপাড়, লতরদি, নাউরী, আমিয়াপুর, সাদুল্লাপুর, দুর্গাপুর গ্রামের বিলসহ কমপক্ষে ৪০টি বিল এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

এরইমধ্যে জলাবদ্ধতার পানি অনেকের উঠোন ও বাড়িঘরে উঠে গেছে। এতে জনভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ছোট ছোট শিশুদেরকে নিয়ে ভয়ভীতির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন এসব মানুষ। বাড়ির চারদিকে পানি থাকার কারণে অনেকে বাড়ি থেকে বের হতে পারছেন না। পাশাপাশি গবাদি পশুর খাদ্য সংগ্রহ করতেও পড়তে হচ্ছে বিড়ম্বনায়।

ছেংগারচর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের দেলোয়ার হোসেনসহ জাকির খান জয়নাল হোসেন ও কয়েকজন জানান, জলাবদ্ধতায় অনেক কৃষকের ফসলি জমির ক্ষতি হয়েছে। ক্ষাতির পরিমাণ কারও ৪০ শতাংশ, কারও ২০ শতাংশ আবার কারও ৭০ শতাংশ বলে দাবি করেন তারা।

এ বিষয়ে মতলব উত্তর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সালাউদ্দিন বলেন, ‘জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রাথমিক একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে। পানি নেমে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আরেকটি তালিকা তৈরি করে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে। যারা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের কৃষি প্রণোদনার আওতায় নিয়ে আসার চেষ্টা করা হবে।’

মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গাজী শরিফুল হাসান বলেন, ‘পানি অপসারণে সেচ প্রকল্পের দুটি পাম্প চালু রয়েছে। দ্রুত খাল পুনঃখনন ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার জন্য আমার এরইমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলেছি।’

নজরুল ইসলাম আতিক/এসজে/এএসএম