দেশজুড়ে

সুনামগঞ্জে বেড়িবাঁধ ভেঙে তলিয়ে গেছে পুকুর-ফসলি জমি

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের চাপে ভেঙে গেছে দলাই নদীর বেড়িবাঁধ। এতে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় মঙ্গলকাটা বাজারসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার ঘরবাড়িতে পানি প্রবেশ করেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়ে শতাধিক মানুষ। তলিয়ে গেছে ওই এলাকার পুকুর ও ফসলি জমি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দুদিন ধরে সুনামগঞ্জে টানা বৃষ্টিপাত হচ্ছে। ফলে পাহাড়ি ঢলের চাপে মঙ্গলবার সকালে মঙ্গলকাটা বাজারের পাশে থাকা দলাই নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে যায়। এতে মঙ্গলকাটা বাজার, পার্শ্ববর্তী বাড়িঘর ও পুকুর ডুবে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী আইয়ুব খান, আব্দুল হানিফ, সেলিম মিয়া, আব্দুশ শহীদ, অহিদ মিয়া ও রুহুল আমিন বলেন, বেড়িবাঁধ ভেঙে বাজারে পানি প্রবেশ করায় অন্তত ১০০টি দোকানের মালামাল নষ্ট হয়ে গেছে। এতে অন্তত আড়াই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের।

মঙ্গলকাটা বাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক বুরহান উদ্দিন চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, ‘হঠাৎ পাহাড়ি ঢল আসায় বাজারের অনেক দোকানপাট ও মালামালের ক্ষতি হয়েছে। বাজারের বিভিন্ন গলি ও রাস্তাঘাটের ক্ষতি হয়েছে বেশি।’

ঢলের পানিতে বাজারের পাশের সড়ক ডুবে মঙ্গলকাটা গ্রামের প্রায় ৩০টি পুকুরে পানি প্রবেশ করে। পুকুর চাষি কামাল হোসেন, ইয়াছিন মিয়া, হামদু মিয়া, জাকির হোসেন, দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘হঠাৎ পাহাড়ি ঢলের পানি প্রবেশ করে পুকুরের সব মাছ ভেসে যায়। এতে তাদের প্রায় ৭ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

এছাড়া পার্শ্ববর্তী এলাকার ৫০টি বাড়িঘর প্লাবিত হয়ে পানিবন্দি হয়ে পড়ে শতাধিক মানুষ। ক্ষতি হয় শতাধিক গাছপালার।

পানিবন্দি আয়েশা বেগম বলেন, ‘সকালে ঘুম থেকে উঠেই দেখি বাড়ির উঠানে পানি। নিমিষেই তলিয়ে যায় বাড়ির উঁচু স্থান। পরে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে পানি। আমাদের মতো আরও ৪০-৫০টি ঘরে পানি উঠেছে। আমাদের অনেক গাছপালার ক্ষতি হয়েছে।’

স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল মোতালেব জাগো নিউজকে বলেন, ‘দলাই নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে বাজারে পানি প্রবেশ করে অনেক ক্ষতি হয়েছে। মঙ্গলকাটা গ্রামের পুকুরের ক্ষতি হয়েছে এবং ঘরবাড়ি গাছপালার ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া আমাদের এলাকার সবজি ফসলের বেশ ক্ষতি হয়েছে।’

ইউপি চেয়ারম্যান মুকশেদ আলী জাগো নিউজকে বলেন, ‘বাঁধ ভেঙে হঠাৎ মঙ্গলকাটা বাজার প্লাবিত হয়েছে। একইসঙ্গে মঙ্গলকাটা গ্রামসহ আরও কয়েকটি গ্রামের বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে গেছে। আমি মঙ্গলকাটা বাজারসহ প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজ-খবর নিয়েছি।’

লিপসন আহমেদ/এসজে/এএসএম