টাঙ্গাইলে ফসল রক্ষায় স্বেচ্ছায় বাঁধ নির্মাণ করেছে গ্রামবাসী। ১৩৫ একর আমন ফসল রক্ষায় কালিহাতীর ঝিনাই নদীর বাগুটিয়া উত্তরপাড়া অংশের ভাঙন রোধে স্বেচ্ছায় এ বাঁধ নির্মাণ করেন তারা। এতে ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, গত কয়েকদিনের ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে যমুনায় পানি বেড়েছে। এতে ঝিনাই নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। রোববার (২৯ আগস্ট) উপজেলার বাংড়া ইউনিয়নের বাগুটিয়া উত্তরপাড়া অংশের ঝিনাই নদীর পাড় ভেঙে বাগুটিয়া গ্রামের উত্তরপাড়া চকের আমনের জমি তলিয়ে যায়। পরে ফসল রক্ষায় বাঁশ, খড়, ত্রিপল ও মাটির বস্তা দিয়ে নদী থেকে দুই ফুট উঁচু করে বিশেষভাবে বাঁধ তৈরি করে গ্রামবাসী। বাঁধ নির্মাণের ফলে এখন জমি থেকে পানি নেমে গিয়ে নদীতে স্বাভাবিকভাবে প্রবাহিত হচ্ছে।
বাঁধটি নির্মাণ না করা হলে উপজেলার পূর্ব মধ্যাঞ্চলের আবাদি জমি হুমকিতে পড়তো বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তবে অচিরেই স্থায়ী ব্যবস্থা না নিলে এবং পানি আরও বাড়লে বাঁধ ভেঙে ফসলি জমি তলিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
বাঁধ নির্মাণের উদ্যোক্তা ইয়াকুব আলী, রিয়াজ উদ্দিন, আমজাদ হোসেন, হাফিজ উদ্দিন ও আতোয়ার হোসেন বলেন, জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট কেউ এগিয়ে আসেনি। তাই ফসল ও জমি রক্ষায় প্রত্যেকে বাঁশ ও শ্রম দিয়ে আমরা নিজেরাই বাঁধটি নির্মাণ করেছি। এতে ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।
বাংড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান হাসমত আলী নেতা বলেন, এটি স্থায়ী কোনো বাঁধ নয়, নদীর পাড় বেঁধে মানুষের চলাচলের জন্য একটি রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছিল। গত বন্যায় সেটিও ভেঙে যায়। তবে ওই সময় উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে অস্থায়ীভাবে কাজ করতে গেলেও স্থানীয়রা জমি থেকে মাটি কাটতে না দেয়ায় কাজটি করা হয়নি। এ কারণে চলতি বন্যায় আবার জমিগুলোর ফসল তলিয়ে গেছে। তিনি আরও বলেন, ব্লকের স্থায়ী বাঁধ দেওয়ার মতো বরাদ্দ ইউনিয়ন পরিষদে না থাকায় তারা নতুন কোনো উদ্যোগ নিতে পারেননি।
এ বিষয়ে কালিহাতী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা তানজিন অন্তরা বলেন, সরেজমিনে পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরিফ উর রহমান টগর/এসআর/এমএস