দেশজুড়ে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় স্বপন হত্যা: পলাতক ৬ আসামিকে খুঁজছে সিআইডি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বারো আউলিয়ার বিলে রাতের অন্ধকারে স্বপন মিয়া (৪০) নামের এক মৎস্যজীবীকে হত্যার ঘটনায় এখনো উত্তপ্ত সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের হাবলাউচ্চ গ্রাম। হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ দুমাস পর এর রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা সিআইডি পুলিশ। স্বপন হত্যায় শফিকুল ইসলাম হৃদয় (২৮) নামে এক মুরগি ব্যবসায়ীকে সিআইডি পুলিশ আটক করে গত ২০ আগস্ট জেলা বিজ্ঞ আদালতে সোর্পদ করেন। আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যার পুরো ঘটনা তুলে ধরেন হৃদয়। নিহত স্বপন হাবলুউচ্চ গ্রামের মৃত আব্দুল হাকিমের ছেলে।

এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির উপ-পরিদর্শক সানাউল ইসলাম জাগো নিউজকে জানান, স্বপন হত্যা মামলায় আদালতে হৃদয় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। সে জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ৮ জনের নাম প্রকাশ করেছে। এরমধ্যে সে নিজে এবং আরও একজনসহ দুজন গ্রেফতার আছে। বাকি আরও ৬ জনকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে সব আসামির নাম প্রকাশ করা যাচ্ছে না।

জবাবন্দিতে আসামি হৃদয় আদালতকে জানিয়েছেন, স্বপন মিয়া থাকতেন মহসিন বাড়ির সামনের পুকুর পাড়ে একটি টিনের ঘরে। ইউনিয়নের হাবলাউচ্চ, বিরামপুর, শিলাউর ও ঈশাননগর গ্রামে রাজনৈতিক কারণে দুটি গ্রুপ ছিল। একটি গ্রুপের লিডার ছিলেন মহসিন। গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচন করেন তিনি। নৌকা প্রতীকের প্রার্থী শেখ ওমর ফারুকের কাছে হেরে যাওয়ার পর থেকে বিজয়ী চেয়ারম্যানের সমর্থিত লোকজন যাতে এলাকাছাড়া হয় সেজন্য মহসিন ও ফরিদ মিয়া সিদ্ধান্ত নেন, নিজেদের কাউকে মেরে বিরোধী গ্রুপকে ফাঁসাবে। গত ২৬ মে মহসিনের কথায় আমি (হৃদয়) রাত আনুমানিক সাড়ে দশটার দিকে তাদের বাড়িতে যাই। সেখানে গিয়ে তার ভাই কাউছার, এখলাছ ও অন্য তিনজন শরীফ, মোতাহার পাঠান ও আজগরকে আলাপরত অবস্থায় পাই। পরে এ পাঁচজনের সঙ্গে আমাকে বারো আউলিয়ার বিলে স্বপনের কাছে যেতে বলে। রাত অনুমানিক ১১টার দিকে তাদের সাথে আমি বারো আউলিয়ার বিলে যাই। তারা পাঁচজন বিলের পানিতে নেমে পড়ে, তখন আমি আমার মোবাইল নিয়ে পাড়ে ২০/২৫ মিনিট ব্যস্ত ছিলাম। পরে শরীফ ভাইসহ অন্য চারজন এসে বলে- ‘চল বাড়িতে চলে যাই, কাজ শেষ হয়ে গেছে’। পরদিন সকাল ১০টায় স্বপনের লাশ পাওয়া যায় নৌকার উপরে।

মৎস্যজীবী স্বপন মিয়া হত্যার ঘটনার প্রায় দুই সপ্তাহ পর তার স্ত্রী রোকেয়া বেগম গত ৮ জুন অজ্ঞাত আসামি করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটি তদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সিআইডি পুলিশে হস্তান্তর করা হয়।

এদিকে স্বপন মিয়া হত্যা মামলায় হৃদয় জবানবন্দি দেওয়ার পর থেকে মূলহোতা মহসিনসহ তার লোকজন গ্রামে আতঙ্ক ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। মহসিন দলবদ্ধ হয়ে গত ২৯ আগস্ট রাত ৮টার দিকে হাবলাউচ্চ গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য ফখরুল ইসলামের বাড়িতে হামলা চালান। এসময় তারা ওই ইউপি সদস্যসহ গ্রামের আশরাফ আলীর ছেলে স্বাধীন মিয়া ও এলেম মিয়ার ছেলে ইমরান মিয়াকে মারধর করে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী ফখরুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘মহসিনের নির্দেশে তার লোকজন গ্রামবাসীকে ফাঁসানোর জন্য নিরীহ স্বপনকে বিলে নিয়ে হত্যা করে। এখন নিজেরা ফেঁসে যাওয়ায় আবার গ্রামে আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করছে। সন্ধ্যার পর দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মহড়া দিচ্ছে। বিনা কারণে আমার বাড়িতে হামলা চালাচ্ছে এবং আমাকে প্রাণে মারার চেষ্টা করেছে। গ্রামের শান্তি নষ্ট করার জন্য মহসিন যে সন্ত্রাসী বাহিনী তৈরি করেছে, যদি স্বপন হত্যার ঘটনায় প্রশাসন তাদের গ্রেফতার না করে, তাহলে তাদের ভয়ে সাধারণ মানুষের গ্রামে থাকা খুব কঠিন হবে।’

এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মহসিনের সঙ্গে কথা বলতে তার মুঠোফোনে বারবার কল দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

আবুল হাসনাত মো.রাফি/এমকেআর/এএসএম