করোনার কারণে প্রায় দেড় বছর বন্ধ থাকার পর খুলতে যাচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ১২ সেপ্টেম্বর থেকে খুলে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। তারই অংশ হিসেবে নারায়ণগঞ্জের প্রায় ছয় লাখ শিক্ষার্থী ক্লাসে ফিরতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। শিক্ষার্থীদের সাদরে গ্রহণ করতে নারায়ণগঞ্জের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চলছে শেষ মুহূর্তের ধোয়ামোছা।
শিক্ষা অফিস সূত্র জানিয়েছে, নারায়ণগঞ্জে হাইস্কুল, কলেজ ও মাদরাসা মিলে ৩০০ প্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে পৌনে দুই লাখ এবং ৫৪৭ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় চার লাখ শিক্ষার্থীকে স্কুলমুখী করতে সাড়ে সাত হাজার শিক্ষক শিক্ষিকা পুরোদমে প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইতিমধ্যে শিক্ষকরা স্কুলে উপস্থিত হয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম তদারকি করছেন। আর জেলা শিক্ষা অফিস ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে পরিদর্শন করছেন।
সরেজমিনে কয়েকটি কলেজ, মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে দেখা গেছে, শিক্ষক-শিক্ষিকার মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের নির্দেশনায় গত কয়েকদিন ধরে তারা স্কুলে হাজিরা দিচ্ছেন তারা।
অভিভাবক নাজমা সুলতানা বলেন, ‘পুরো বছর জুড়েই স্কুল-কলেজ খোলার তারিখ শুনলাম। এবার যে তারিখ ঘোষণা হয়েছে সেটি যেন আর পরিবর্তন না হয়-সেই প্রত্যাশা করছি। ছেলে মেয়েরা বাসায় বসে মোবাইলে আসক্ত হয়ে পড়েছে। অনলাইন কিংবা টিভি কোনটিতেই ঠিকমত ক্লাস করে না। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দ্রুত খুলে দেয়া জরুরি।’
নারায়ণগঞ্জ হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. কামরুল ইসলাম বলেন ‘পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা চলমান প্রক্রিয়া। এরপরও যেহেতু ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার নির্দেশনা রয়েছে। সে হিসেবে চলমান প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে একেবারে ভালোভাবে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম করছি। ডিটারজেন্ট দিয়ে পরিষ্কারের পর স্যাভলন পানি দিয়ে জীবাণুমুক্ত করা হচ্ছে।’
প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার অহিন্দ্র কুমার মণ্ডল বলেন, ‘স্কুল খুললে জেলার তিন লাখ ৯৭ হাজার ৯৬২ শিক্ষার্থী জেগে উঠবে। সবাই খুশি। নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলায় ১৭ হাজার ৮০৭ জন শিক্ষার্থী জেগে উঠবে।
জেলা শিক্ষা অফিসার মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘সব প্রতিষ্ঠানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম চলছে। বিদ্যালয় চালু হলে শিক্ষার্থীদের যেন কোনো অসুবিধা না হয়। সেই সঙ্গে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মনিটরিং করা হচ্ছে। সরকার যেভাবে নির্দেশনা দিবে আমরা সে অনুযায়ী সব কার্যক্রম পরিচালনা করে যাব।’
এএইচ/জিকেএস