ক্লোজআপ ওয়ান তারকা কণ্ঠশিল্পী সাজু আহমেদের হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত মা রানীজান বেগম তার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।
সোমবার (৫ সেপ্টেম্বর) এজাহারটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন উলিপুর থানার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) আনিসুর রহমান।
তিনি বলেন, অভিযুক্ত সাজুর বিরুদ্ধে তার মায়ের অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাটি প্রাথমিকভাবে তদন্ত করা হয়। এরপর মামলা রেকর্ড করে অভিযুক্ত সাজুকে গ্রেফতারে অভিযান চালানো হচ্ছে। বর্তমানে তিনি পলাতক। তাকে গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, সাজু আহমেদ ২০০৮ সালে বেসরকারি টেলিভিশন এনটিভি আয়োজিত রিয়েলিটি শো ক্লোজআপ ওয়ান প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় রানারআপ নির্বাচিত হন। তার বাড়ি কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার পান্ডুল ইউনিয়নে। তিনি ওই ইউনিয়নের তেলিপাড়ার মৃত আজগর আলীর ছোট ছেলে।
এদিকে ছেলের হামলায় মাথায় জখম নিয়ে চতুর্থ দিনের মতো কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ভুক্তভোগী রানীজান বেগম। তার শারীরিক অবস্থা ভালো বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ডা. পুলক কুমার সরকার।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রানীজান বেগম বলেন, সাজুর কঠিন শাস্তি চাই, ওর যেন জেল হয়। সে বারবার আমাকে অপমান করেছে। আমার ছোট ও শিল্পী বলে এতদিন কোনো অভিযোগ করিনি।
এদিকে নিজের ফেসবুক আইডিতে অসুস্থ মায়ের জন্য দোয়া চেয়ে পোস্ট দিয়েছেন অভিযুক্ত সাজু আহমেদ। সোমবার ভোর রাতে দেওয়া পোস্টে সাজু লিখেন, ‘আমার মায়ের জন্য সবাই দোয়া করবেন প্লিজ’। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলোকে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছেন তিনি।
এর আগে তিনি দাবি করেন, জমির অংশ দাবি করায় আমার মা ও বড় বোন আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছেন। আমি মায়ের ওপর আঘাত করিনি। বোনের ছোড়া ঢিল আমার শরীরে না লেগে মায়ের মাথায় লেগেছে। তদন্ত করলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।
এ বিষয়ে উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ কবির জানান, প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। আমরা অভিযুক্ত সাজুকে গ্রেফতারে চেষ্টা চালাচ্ছি।
এর আগে ৩ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) পারিবারিক কলহের জেরে সাজুর ছোড়া ঢিল মাথায় লেগে আহত হন রানীজান বেগম। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন।
মাসুদ রানা/আরএইচ/জেআইএম