দেশজুড়ে

বরগুনায় পানি অনুসন্ধানের পর বিকট শব্দে উঠছে ‘গ্যাস’

বুলেটের মতো শব্দ করে বরগুনার পাথরঘাটায় মাটির নিচ থেকে অনবরত গ্যাস উঠছে। ভূগর্ভের নিরাপদ পানি অনুসন্ধান করতে গিয়ে লেয়ার গ্যাসের বিস্ফোরণ ঘটায় এ গ্যাস উঠছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় এলাকায় জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে। গ্যাস ওঠা দেখতে উৎসুক জনতা ভিড় করছে।

শুক্রবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের রূহিতা গ্রামে রূহিতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে গ্যাস ওঠা শুরু করে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মাটির নিচ থেকে গ্যাস উঠতে দেখা গেছে।

ঘটনাস্থলে পাথরঘাটা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তফা গোলাম কবির, সদরের ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান, ইউপি সদস্য খলিলুর রহমান পরিদর্শন করেছেন। কিছুক্ষণ পরে পাথরঘাটা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করেছেন এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, শুক্রবার জুমার নামাজের পরে হঠাৎ করে স্কুল মাঠে কাঁদা মাটির উপরে উঠতে দেখা যায়, মুহূর্তের মধ্যে আশপাশের লোকজন ভিড় জমান আস্তে আস্তে মাটির নিচ থেকে অদ্ভুত শব্দ শুরু হয় এবং গ্যাসের মতো কিছু উঠছে।

পানি সম্পদ অধিদপ্তর থেকে আসা হাইড্রোজিওলজিস্ট মোহাম্মদ ফুয়াদ বলেন, গত তিনদিন ধরে তারা মাটির নিচের এক হাজার ফিট পাইপ প্রবেশ করিয়ে নিরাপদ পানির অনুসন্ধান চালায়। হঠাৎ করে শুক্রবার জুমার নামাজের পর মাটির ভেতরে বিস্ফোরণ হয়ে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ ফিট উপরে মাটি ওঠে যাচ্ছে।

পাথরঘাটা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তফা গোলাম কবির বলেন, ঘটনা শুনেই আমরা জায়গা পরিদর্শন করেছি এবং সেখানে আপাতত গ্যাসের মতো কিছু আছে মনে হচ্ছে। অভিজ্ঞ টিমের মতামত ছাড়া কিছুই বলা যাচ্ছে না।

এদিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে গ্যাস ওঠায় এলাকার মানুষের মাঝে আতঙ্কের পাশাপাশি ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে নতুন করে আতঙ্ক শুরু হয়ে গেছে। এমতাবস্থায় ১২ সেপ্টেম্বর সরকার ঘোষিত সারা দেশের সব বিদ্যালয় খোলার নির্দেশনা রয়েছে এমন সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় বন্ধ রাখার জন্য অনেকেই দাবি করেছেন।

সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য খলিলুর রহমান বলেন, এখন পর্যন্ত যে অবস্থা দেখা যাচ্ছে তাতে মাটির নিচে গ্যাস থাকলেও থাকতে পারে। ১২ সেপ্টেম্বর স্কুল খোলার কথা রয়েছে কিন্তু এ অবস্থায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত এই বিদ্যালয় খোলা ঠিক হবে না।

পাথরঘাটা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ঘটনার পর থেকেই আমরা এখানে অবস্থান করছি। লোকজনকে নিরাপদ সরে যেতে এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে।

পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হোসাইন মুহাম্মদ আল মুজাহিদ বলেন, এমন খবর আমি শুনেছি, ফায়ার সার্ভিসের লোকজনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য নির্দেশনা দিয়েছি। আপাতত এটাকে গ্যাস বলা যাবে না, সচরাচর হয়ে থাকে। এটাকে মিথেন গ্যাস বলে।

তবে মানুষের যেভাবে উৎসাহ ভিড় দেখা যায় তাতে যে কোনো দুর্ঘটনার সম্ভাবনা থাকে। ঘটনাস্থল থেকে লোকজন সরিয়ে নিতে নির্দেশনাও দিয়েছেন তিনি।

এমআরএম/এএসএম