জোয়ারের পানি প্রবেশ করায় শরীয়তপুরের ৬০ প্রাথমিক ও মাধ্যমিক খোলা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ ও ৫৮ প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলের মাঠ বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে।
শরীয়তপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, জেলার সদর উপজেলায় চারটি, জাজিরায় ১৯টি, নড়িয়ায় ২৮টি ও ভেদরগঞ্জ চারটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়াও নড়িয়া উপজেলার পূর্ব নড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও চরজপসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ পানি প্রবেশ করেছে।
তিনি বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ওই সব প্রতিষ্ঠানে ক্লাস নেওয়ার বিষয়ে চিন্তায় রয়েছি। তবে আশার খবর হল, গত দুই-তিন দিন ধরে জোয়ারের পানি কমতে শুরু করেছে। যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পানি নেমে যায় তাহলে প্রাথমিক স্কুলগুলো শিক্ষার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হবে।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. এমারত হোসেন মিয়া বলেন, জাজিরার একটি ও নড়িয়া উপজেলার দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠ বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে।
নড়িয়ার ঈশ্বরকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, স্কুল মাঠে পানি জমেছিল। এখন পানি কমে যাচ্ছে।
জাজিরা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মাস্টার রফিকুল ইসলাম জানান, আমার উপজেলার কাজিয়ারচর ছমির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় ও কাজিয়ারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে জোয়ারের পানি উঠেছে। পানি না কমলে শিশু শিক্ষার্থীরা কিভাবে ক্লাস করবে।
একই উপজেলার বিকেনগর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. সাইদুর রহমান সরদার বলেন, ইউনিয়নের পূর্ব কাজী কান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে পানি জমেছে। পানি না কমলে শিক্ষার্থীদের ক্লাস করাটা কঠিন হয়ে যাবে।
জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, আমি শিক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। বিদ্যালয়ের মাঠে পানি উঠেছিল, এখন নেমে যাচ্ছে। এভাবে পানি কমতে থাকলে আগামী ১২ সেপ্টেম্বর স্কুলে ক্লাস করায় কোনো সমস্যা নাই।
মো. ছগির হোসেন/আরএইচ/এএসএম