খেলাধুলা

তামিমের নেপালে খেলা: সমালোচকদের মুখ বন্ধ করলেন দেবাশীষ

নির্বাচক ও টিম ম্যানেজমেন্ট তাকে ঠিকই নিতো। তামিম ইকবালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা পাওয়া নিয়ে কোনোই সংশয় ছিল না। কিন্তু তামিম নিজ থেকে শেষ সময়ে জানান সরে দাঁড়ানোর কথা।

Advertisement

তামিমের স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছে ও ঘোষণা দুইভাবে দেখা হচ্ছে। একপক্ষ স্বাগত জানিয়েছে। অন্য পক্ষের কথা, তিনি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ না খেলে যাচ্ছেন নেপালের এভারেস্ট প্রিমিয়ার লিগে, ব্যাপারটা কেমন দেখাচ্ছে না!

সত্যিই কি তামিম দেশের স্বার্থ না দেখে নিজের কথাই ভাবলেন বেশি? যাদের মনে ছিল অমন তির্যক প্রশ্ন, তাদের মুখ বন্ধ করে দিয়েছেন ডা. দেবাশীষ চৌধুরী। বিসিবির প্রধান চিকিৎসক পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, কেন তামিমের নেপালের এভারেস্ট প্রিমিয়ার লিগে খেলা।

বৃহস্পতিবার দুপুরের পরে সাংবাদিকদের সাথে আলাপে দেবাশীষ চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের সাথে তামিমের যে পরিকল্পনা ছিল, তাতে এভারেস্ট প্রিমিয়ার লিগ খেলাটা তার পুনর্বাসন প্রক্রিয়ারই একটা অংশ।’

Advertisement

দেবাশীষ যোগ করেন, ‘ওই টুর্নামেন্টে খেলার মধ্য দিয়েই বোঝা যাবে, তামিম স্কিল ও অন্যান্য বিষয়গুলো কিভাবে ম্যানেজ করতে পারছে। তার ওপর নির্ভর করে তার চিকিৎসা পদ্ধতি ও করণীয় ঠিক করা হবে।’

এখন তামিমের কি অবস্থা? এমন প্রশ্নে দেবাশীষের উত্তর, ‘এখন পর্যন্ত যে অবস্থা, তাতে তামিম বেশ আত্মবিশ্বাস পাচ্ছে। স্কিল ট্রেনিংগুলোও করতে পারছে এবং সেটা প্রায় পুরো প্রচেষ্টা দিয়ে। কিন্তু খেলার ব্যাপারটা অন্যরকম। যতক্ষণ পর্যন্ত সে প্রকৃত খেলার মধ্যে না আসবে, ততক্ষণ পর্যন্ত নিজেকে ঠিকমতো বুঝতে পারবে না। সুতরাং এই লিগে অংশ নেওয়াটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে। তাহলে একটা ফিডব্যাক পাবো পরবর্তীতে কি করবো।’

তামিমের বর্তমান পুনর্বাসন নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে দেবাশীষ চৌধুরী বলেন, ‘তামিমকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে ৮ সপ্তাহের পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়ার জন্য। সে গত মাসখানেক ধরে পুনর্বাসন পরিকল্পনা অনুসরণ করেছে জাতীয় দলের ফিজিও ও ট্রেনারের তত্ত্বাবধানে। অধ্যবসায় ও কষ্টের সাথে এই জটিল ও দীর্ঘ পুনর্বাসন প্রক্রিয়া অনেকটা সে শেষ করে এনেছে।’

দিন তিনেক আগে তামিম শেরে বাংলার নেটে ব্যাটিং প্র্যাকটিসও শুরু করেছেন। দেবাশীষ চৌধুরীর আশা, দেশসেরা ওপেনার এভাবে অনুশীলন চালিয়ে যেতে পারলে এভারেস্ট প্রিমিয়ার লিগে খেলতে কোনোই অসুবিধা হবে না।

Advertisement

বিসিবির প্রধান চিকিৎসকের ভাষায়, ‘গত ২-৩ দিন ধরে ও স্কিল ট্রেনিং শুরু করেছে। ফিল্ড ড্রিল শুরু করেছে এবং আস্তে আস্তে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাচ্ছে। আমরা আশাবাদি যে আরও সময় তো আছে, ও যদি এভাবে চালিয়ে নিতে পারে তাহলে এভারেস্ট প্রিমিয়ার লিগে খেলার যে ইচ্ছে সে প্রকাশ করেছে তাতে কোনো সমস্যা হবে না।’

এআরবি/এমএমআর/জেআইএম