খেলাধুলা

দেখে নিন, আগের ৬ বিশ্বকাপে টুর্নামেন্ট সেরা হয়েছিলেন কারা

এখন পর্যন্ত আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ছটি আসর অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয় ২০০৭ সালে। এরপর ধারাবাহিকভাবে এ বিশ্বকাপটি অনুষ্ঠিত হলেও, কত বছর পর অনুষ্ঠিত হবে, সে ফরম্যাটটা এখনও ঠিক করতে পারেনি আইসিসি। প্রতি বিশ্বকাপেই দেখা মিলছে নতুন নতুন উদীয়মান খেলোয়াড়ের। প্রতি আসরেই নতুন নতুন ক্রিকেটার টুর্নামেন্ট সেরা হলেও গত দুই আসরে একজনই সেরার আসন দখল করে রেখেছেন।

Advertisement

প্রথম আসর সেরা শহিদ আফ্রিদি

প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয় ২০০৭ সালে। আয়োজক দক্ষিণ আফ্রিকা। সে আসরের টুর্নামেন্ট সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জেতেন পাকিস্তানের অলরাউন্ডার শহিদ আফ্রিদি।

শহিদ আফ্রিদি ২০০৬ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু করেন তার টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ার। এরপর অংশগ্রহণ করেন প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। ওই আসরের ফাইনালে মুখোমুখি হয় ভারত এবং পাকিস্তান। চ্যাম্পিয়নশিপের মুকুট পরে ভারত।

Advertisement

কিন্তু আসর সেরার পুরস্কার জেতেন রানার্সআপ দলের ক্রিকেটার শহিদ আফ্রিদি। পুরো আসরে খেলেছেন দুর্দান্ত। ব্যাট হাতে মোটে ৯১ রান করলেও বল হাতে ছিলেন বিধ্বংসী। মোট ৭ ম্যাচে উইকেট নেন ১২টি। যদিও ফাইনালে ছিলেন পুরোপুরি ব্যর্থ। বল হাতে ৩০ রান দিয়ে কোনো উইকেট পাননি। ব্যাট হাতে মারেন গোল্ডেন ডাক।

দ্বিতীয় আসরের সেরা তিলকারত্নে দিলশান

প্রথমবার অনুষ্ঠিত হওয়ার দুই বছরের মাথায়, ২০০৯ সালে আবারও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। এবার আয়োজক ইংল্যান্ড। ওই আসরের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন শ্রীলংকান ব্যাটার তিলকারত্নে দিলশান। দলের হয়ে ব্যাট হাতে ইনিংস ওপেন করতেন দিলশান।

ওই আসরের ফাইনালে পাকিস্তানের মুখোমুখি হয় শ্রীলংকা। সে ম্যাচে দিলশানের ব্যাট কথা বলেনি। তবে টুর্নামেন্টজুড়ে সর্বোচ্চ ৩১৭ রান করেন তিনি ১৪৪.৭৪ স্ট্রাইক রেটে। অথচ ফাইনালে আউট হয়েছিলেন শূন্য রানে। টুর্নামেন্ট সেরা হলেও দিলশানের দল বিশ্বকাপ জিততে ব্যর্থ হয়।

Advertisement

ডানহাতি এ মারমুখী ব্যাটারের জাতীয় দলের হয়ে টি-টোয়েন্টি অভিষেক ২০০৬ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে তার মোট রান সংখ্যা ১৮৮৯। হাঁকিয়েছেন একটি সেঞ্চুরি এবং ১৩টি হাফ-সেঞ্চুরি। ক্যারিয়ারের শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি খেলেন ২০১৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে।

তৃতীয় আসর সেরা কেভিন পিটারসেন

এক বছর বিরতি দিয়ে আবারও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। ২০০৯ সালের পর ২০১০ সালে। এবারের আয়োজক ওয়েস্ট ইন্ডিজে। ওই আসরের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন কেভিন পিটারসেন। তৃতীয় আসরে এসে প্রথম চ্যাম্পিয়ন দলের কেউ টুর্নামেন্ট সেরা নির্বাচিত হলেন।

ওই আসরের ফাইনালে মুখোমুখি হয় অস্ট্রেলিয়া এবং ইংল্যান্ড। ফাইনালে ৩১ বলে ৪৭ রানের এক অসাধারণ ম্যাচ খেলে দলকে জয়ের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যান এ ডানহাতি ব্যাটার। ওই আসরে তার মোট রান ছিল ২৪৮। ফলে তাকেই বেছে নেয়া হয় টুর্নামেন্টের সেরা হিসেবে।

ইংল্যান্ড দলের এ অলরাউন্ডারের টি-টোয়েন্টি অভিষেক হয় ২০০৫ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে তার মোট রান সংখ্যা ১১৭৬। ক্যারিয়ারের শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি খেলেন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২০১৩ সালে।

চতুর্থ আসর সেরা খেলোয়াড় শেন ওয়াটসন

দুই বছর বিরতি দিয়ে আবারও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আসর, ২০১২ সালে। আয়োজক শ্রীলংকা। ওই আসরের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন শেন ওয়াটসন।

শ্রীলঙ্কার মাটিতে শেন ওয়াটসনের দল ফাইনাল খেলতে না পারলেও আসরের সর্বোচ্চ রান আসে তারই ব্যাট থেকে। অসি দলের এ মারমুখি ব্যাটারকে ডাকা হত ‘দ্য ডেঞ্জারম্যান’ নামেও। ২০১২ টি-টোয়েন্টি আসরে তার সর্বমোট রান ছিলো ২৪৯। গ্রুপ পর্বেই পাকিস্তানের কাছে হেরে বিদায় নেয় তার দল অস্ট্রেলিয়া।

অসি দলের এ অলরাউন্ডারের দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ২০০৬ সালে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ার শুরু হয়। টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে তার মোট রান সংখ্যা ১৪৬২। খেলেছে একটি শত রানের ইনিংস এবং ১০টি অর্ধশত রানের ইনিংস। ক্যারিয়ারের শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেন ভারতের বিপক্ষে ২০১৬ সালে, মোহালিতে।

পঞ্চম আসরের সেরা খেলোয়াড় বিরাট কোহলি

দুই বছর বিরতি দিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পঞ্চম আসর অনুষ্ঠিত হয় ২০১৪ সালে। এবার আয়োজক বাংলাদেশে। এবার প্রথমবারের মত কোনো ভারতীয় ক্রিকেটার টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন। সেবার আসরের সর্বোচ্চ রানের জায়গাটা ছিল কোহলির দখলে।

ফাইনালে শ্রীলংকার মুখোমুখি হয়ে দারুণ এক পারফরম্যান্স করেছিলেন কোহলি। ৫৮ বলে ৭৭ রানের ইনিংস খেলেন। তবুও লংকানদের কাছে হেরে বিশ্বকাপ জয় করতে ব্যর্থ হয় ভারত। ওই আসরে কোহলির সর্বমোট রান ছিলো ৩১৯।

ষষ্ঠ আসরের সেরা খেলোয়াড়ও বিরাট কোহলি

ষষ্ঠ আসর অনুষ্ঠিত হয় ২০১৬ সালে। এবাররে আয়োজক ভারত। ওই আসরেরও টুর্নামেন্ট সেরা নির্বাচিত হন বিরাট কোহলি। এই প্রথম কোনো ক্রিকেটার পরপর দুইবার টুর্নামেন্ট সেরার জায়গা দখল করে নেন। ওই আসরে সেমিফাইলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হেরে বিদায় নেয় ভারত। এই আসরে কোহলির ব্যাট থেকে আসে ২৭৩ রান। বল হাতেও তিনি ১টি উইকেট নিয়েছিলেন।

ভারতীয় এ ব্যাটারের টি-টোয়েন্টি অভিষেক ২০১০ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। বর্তমানে তিনি ভারতীয় জাতীয় দলের অধিনায়ক। টি-টোয়েন্টিতে এখনও পর্যন্ত ৯০ ম্যাচ খেলে ৩১৫৯ রান করেন কোহলি। তবে এখনও কোনো সেঞ্চুরি করতে পারেননি। সর্বোচ্চ রান অপরাজিত ৯৪।

করোনার কারণে ২০২০ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়নি। এক বছর পিছিয়ে ১৭ অক্টোবর (রোববার) থেকে শুরু হবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সপ্তম আসর। এবার দেখার পালা কে হন, ২০২১ আসরের সেরা ক্রিকেটার।

আইএইচএস/