সাহিত্য

গণহত্যা পরিবেশ থিয়েটার চলবে সারাদেশে

মুজিব জন্মশতবর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে দেশের প্রতিটি জেলায় প্রদর্শন হবে গণহত্যা পরিবেশ থিয়েটার। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির ব্যবস্থাপনায় বাস্তবায়িত হচ্ছে বিশাল এ কর্মযজ্ঞ।

Advertisement

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর ভাবনা ও পরিকল্পনায় এতে দেশের বরেণ্য নাট্যকার, নির্দেশক ও অভিনেতারা অংশ নেবেন।

শুক্রবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মেহেরপুর সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসে দেশব্যাপী এ নাট্যযজ্ঞের উদ্বোধন হয়েছে।

উদ্বোধন পর্বে মেহেরপুর সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসে মঞ্চস্থ হয় নাটক “বোধন”। মেহেদি তানজিরের রচনা, পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি রেপার্টরি নাট্যদলের শিল্পীরা নাটকটি পরিবেশন করেন।

Advertisement

নাটক সম্পর্কে ভাবনা ও প্রয়োগ প্রতিক্রিয়ায় নাট্যকার ও নির্দেশক মেহেদী তানজির বলেন,বাংলাদেশের আনাচে কানাচে অসংখ্য মানুষের রক্তের স্মৃতি বিরাজ করছে। বলতে গেলে পুরো দেশটাই গণহত্যার স্মৃতি বহন করছে। ঐতিহাসিক মেহেরপুরের ইতিহাস তেমনই গভীর। পাক হানাদারদের জুলুম আর নৃশংস হত্যার স্মৃতি বহন করছে এ অঞ্চলের ভূমি। এ পরিবেশনায় প্রত্যক্ষদর্শী, জুলুমের শিকার, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বয়ান ও অভিজ্ঞতা নেওয়া হয়েছে মেহেরপুর সরকারি কলেজের আবহে।

তিনি বলেন, “বোধন” ইতিহাসের বয়ানকে অতিক্রম করে অনুধাবনের পর্যায়ে পৌঁছাতে চায়। এই পরিবেশনার অংশ হলো দর্শক, অভিনেতা, নির্দেশক এবং নেপথ্যে কাজ করা প্রত্যেকেই। সংলাপ যেখানে অর্থ হারায় অভিজ্ঞতালব্ধ উপলব্ধি সেখানে ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত করে। মেহেরপুর সরকারি কলেজের স্মৃতিবিজড়িত পরিবেশ এই পরিবেশ থিয়েটারে মূল উপজীব্য। এ পরিবেশে একজন অংশগ্রহণকারীও যদি অতীত আত্মত্যাগ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে জীবনচর্চায় প্রয়োগ ঘটাতে পারে তখনই এ পরিবেশনা স্বার্থক হবে। অতীত ভুলে ভবিষ্যৎ নির্মিত হতে পারে না"

একাডেমির মহাপরিচালক ও নাট্যজন লিয়াকত আলী বলেন, আমাদের জন্য এটা একটা সৌভাগ্য। মুজিব বর্ষের পরপরই স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে আমরা সারাদেশে মানুষের কাছে পৌঁছুতে যাচ্ছি বধ্যভূমি পরিবেশ থিয়েটার নিয়ে। শিল্পের সব শাখাই মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কাজ করেছে, স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরে গণহত্যার চিত্র এ পরিবেশ থিয়েটারের মাধ্যমে দেশব্যাপী তুলে ধরতে চাই। শিল্প-সাহিত্য ইতিহাসকে সজীব রাখে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে। সারাদেশে এ কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা গণহত্যা-বধ্যভূমি তথা মুক্তিযুদ্ধের সার্বিক ইতিহাসকে নতুন প্রজন্মের কাছে শৈল্পিকভাবে পৌঁছুতে চাই।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মেহেরপুর জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ মুনসুর আলম খানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। বিশেষ অতিথি মেহেরপুর পুলিশ সুপার রাফিউল আলম। এছাড়াও অতিথি ছিলেন মেহেরপুর জেলা দায়রা ও জজ মোহাম্মদ ওয়ালিউল ইসলাম এবং মেহেরপুর সরকারি কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর শফিউল ইসলাম সরদার।

Advertisement

আসিফ ইকবাল/এমকেআর