খেলাধুলা

মরুর দেশে রূপকথার খোঁজে

পলিমাটির বদ্বীপ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের তপ্ত বালুর রাজ্য। সেই তপ্ত বালুর বুক চিরে দূর গন্তব্যে উটের পায়ের ছাপ। পশ্চিম আকাশে সূর্য লুকালেও দগ্ধ শরীরের হাড়ভাঙ্গা খাটুনিতে কতো শ্রমিকের রেমিটেন্সই তো সমৃদ্ধ করছে লাল সবুজের পূণ্যভূমি বাংলাকে।

Advertisement

প্রতিদিন কতো বিমানই তো পেটভরা মানুষ নিয়ে উড়ে চলে মাসকাট বিমানবন্দরের রানওয়ের লক্ষ্যে। এবারও বিমান চলল। ওদের পনেরো জনকে নিয়ে। ক্রিকেট শিল্পের শর্টার ভার্সনের ক্যানভাসে ব্যাট-বলের তুলিতে লাল সবুজের আঁচড় দিতে।

রণাঙ্গনের ব্যাট-বলের যুদ্ধে সোনার হরিণ চাই। বিশ্বমঞ্চের একটা টুর্নামেন্টে সেরাদের সেরা হওয়া যে যুগের দাবি! যে দাবি স্বপ্ন আর রূপকথা হয়েই জেগে আছে সতেরো কোটি বাঙালির হৃদয়ে। বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্ট ছাড়া আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অর্জন বলতে সে রকম কিছু নেই। ২০১৭ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে শেষ চারে পৌঁছানোই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ।

অদূর ভবিষ্যতের রূপকথা আর স্বপ্নের পার্থক্য খুঁজতে গোটা জাতি যখন ব্যস্ত, ম্যাশ যুগের আক্ষেপ হয়তো অনেকের হৃদয়েই রক্তক্ষরণ ঘটাবে। ম্যাশ হারিয়েছেন, ফিরেছেন দর্শক হয়ে। তামিম তো নির্বাসনে। সাকিব, রিয়াদ বড্ড ক্লান্ত। অভিমানী মুশি তো চেষ্টায় নিজের সেরাটাই দিচ্ছেন। তবুও তাদের ছন্দে সৃষ্ট ঐক্যতান কাঁপাতে পারে গোটা ক্রিকেট বিশ্বকে। কাঁপিয়ে দিক, দুর্গম গিরি কান্তার মরুর, দুস্তর পারাবার লঙ্ঘন করে ক্রিকেটের সুদিন ফিরে আসুক।

Advertisement

স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে শুরুটা তো হলো ধাক্কা খেয়েই। হতাশার দাগ থেকে হোক না দারুণ কিছু। সাকিব, মুশফিকদের ক্লাসিক ব্যাটিং তো বহুদিনের দাবি। সুন্দরবনের কাছে দীক্ষা সাতক্ষিরার মুস্তাফিজ আইলা সিডরের মতো ঠিকই সামলে দিক প্রতিপক্ষের ব্যাটিং ঝড়কে।

সাইফুদ্দিনের ইয়র্কার ‘বিসুভিয়াসের অগ্নি-উগারী বান’ হয়ে আঘাত হানুক মাটিতে পোতা স্ট্যাম্পে। প্রতিভাবান তকমা নিয়ে সৌম্য-লিটনের দুরন্তপনা ও খামখেয়ালি খেলোয়াড়ি গল্পের পৃষ্ঠা উলটে যাক। বারোর এশিয়াকাপে সদ্য পঁচিশে পা রাখা তরুণ সাকিবরা যখন সিনিয়রের তকমা নিয়ে খেলছিল, উনত্রিশে পা রাখা সৌম্যদের এই পারফর্ম সত্যি হতাশার সীমা ছাড়িয়ে যায়।

ওমান ও পাপুয়ানিউগিনির বিরুদ্ধে জয় শুধু আত্মবিশ্বাসই ফিরিয়ে দেয়নি। বাংলাদেশ দলকে রেখেছে তাঁর স্বপ্নের পথে। এবারের বিশ্বকাপে যদি বাংলাদেশ গ্রুপ পর্ব থেকেই দেশে ফিরে আসতো, তা হতো বাংলার ক্রিকেটের জন্য চরম লজ্জ্বাজনক। ক্রিকেটারদের সাহসী মানসিকতায় এবার আর ভরাডুবি হয়নি। ব্যাট-বলের সব্যসাচি সাকিব ঠিকই হাল ধরেছেন। দুটো ম্যাচেই হয়েছেন সেরাদের সেরা।

দুঃখ নদীর ওপারে আলোকচ্ছটা খেলা করে। এগারোজনের লড়াইয়ে অজি, ইংরেজদের বিরুদ্ধে মিরপুরের আত্মবিশ্বাস ফিরে আসুক আরেকবার।

Advertisement

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দুই যুগেও আলোর সন্ধ্যানে তিমিরের গহ্বর থেকে বেরিয়ে আসতে কতো যুগ অপেক্ষা করাবে টাইগার বাহিনী? ক্রিকেট ভাগ্য মুখ তুলে চাইলে একুশেই হোক না বিশ্বজয়। নয়তো, একই ঔরসজাত ওপারের গঙ্গা আমাদের পদ্মাকে লক্ষ্য করে মুচকি হেসেই বলবে, তোমার ছেলেরা জাত চেনালো কিন্তু মান পেলো না।

আতিক মেসবাহ্ লগ্নশিক্ষার্থী, বাংলা বিভাগজগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

আইএইচএস/