জাতীয়

১০ বছরের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ায় দাবার পরাশক্তি হতে চায় বাংলাদেশ

বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশন ও সাউথ এশিয়ান চেস কাউন্সিলের সভাপতি এবং ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ, বাংলাদেশ (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ বলেছেন, আগামী ১০ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় দাবার পরাশক্তি হতে চায়। দাবার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা সে সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দেশে দাবাকে ছড়িয়ে দিতে চাই।

Advertisement

দাবা নিয়ে ভবিষ্যত পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা আগামী ফেব্রুয়ারি থেকে স্কুল দাবা শুরু করব।

বৃহস্পতিবার (২৮ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর হোটেল লা মেরিডিয়ানে সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেডের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের আয়োজনে শেখ রাসেল আন্তর্জাতিক গ্র্যান্ড মাস্টারস দাবা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী ও সমাপনী অনুষ্ঠানে আইজিপি এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন। গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল।

Advertisement

দেশে দাবা খেলোয়াড়দের সংখ্যা বাড়াতে লিগ চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়ে আইজিপি বলেন, দেশে দাবা খেলোয়াড়ের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য জাতীয় দাবা লিগ, স্কুল দাবা লিগসহ অন্যান্য প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হবে। কোভিড-১৯ এর মধ্যেও আমরা একটি অনলাইন দাবাসহ তিনটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজন করেছি।

দাবা ফেডারেশনের জন্য স্থায়ী জায়গা বরাদ্দ করায় ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে আইজিপি বলেন, প্রশিক্ষিত দাবা খেলোয়াড় তৈরির জন্য আমরা ফেডারেশন থেকে জাতীয় প্রশিক্ষক নিয়োগ করব।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ দাবা ফেডরেশনের সহ-সভাপতি ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত, সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের সহ-সভাপতি তরফদার মো. রুহুল আমিন এবং বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের সহ-সভাপতি কে এম শহিদউল্যা।

স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ও বিশ্ব দাবা সংস্থার ৩.২ জোনের প্রেসিডেন্ট সৈয়দ শাহাব উদ্দিন শামীম।

Advertisement

এসময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি ও বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক ড. শোয়েব রিয়াজ আলম, বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক মাসুদুর রহমান মল্লিক দিপু এবং সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবের চেস কমিটির চেয়ারম্যান আন্তর্জাতিক অর্গানাইজার মাহমুদা হক চৌধুরী।

৯ খেলায় ৭ পয়েন্ট অর্জনকারী প্রতিযোগিতার চ্যাম্পিয়ন পোল্যান্ডের গ্র্যান্ড মাস্টার মিখাইল ক্রাসেনকভ ১০ হাজার মার্কিন ডলার, রানার-আপ ইউক্রেনের গ্র্যান্ড মাস্টার ভিটালি বারনাডস্কি ৭ হাজার মার্কিন ডলার, তৃতীয় ভারতের গ্র্যান্ড মাস্টার শ্রীনাথ নারায়ণান ৫ হাজার মার্কিন ডলার, চতুর্থ ভারতের আন্তর্জাতিক মাস্টার মিত্রভা গুহ ৩ হাজার মার্কিন ডলার, পঞ্চম ভারতের গ্র্যান্ড মাস্টার শ্যাম সুন্দর মহাজন ২ হাজার মার্কিন ডলার, ষষ্ঠ ইরানের আন্তর্জাতিক মাস্টার মৌসাভী সৈয়দ খলিল ২ হাজার মার্কিন ডলার, সপ্তম আজারবাইজানের গ্র্যান্ড মাস্টার রাসুলভ ভুগার ২ হাজার মার্কিন ডলার, ইরানের গ্র্যান্ড মাস্টার সোদাদেগপৌর মাসউদ ২ হাজার মার্কিন ডলার পুরস্কার পান।

নবম থেকে বিশতম জনপ্রতি এক হাজার মার্কিন ডলার করে অর্থ পুরস্কার লাভ করেন। তারা হলেন- আজারবাইজানের গ্র্যান্ড মাস্টার আসাদলি ভুগার, ভারতের আন্তর্জাতিক মাস্টার কোস্তভ চ্যাটার্জি, আজারবাইজানের গ্র্যান্ড মাস্টার ইসকান্দারভ মিসরাদিন, বেলজিয়ামের গ্র্যান্ড মাস্টার ভাদিম মালাকাতকো, ভারতের গ্র্যান্ড মাস্টার আর আর লক্ষণ, ভারতের আন্তর্জাতিক মাস্টার আদিত্য মিত্তাল, ইউক্রেনের গ্র্যান্ড মাস্টার সুমিতস আন্দ্রে, ভারতের গ্র্যান্ড মাস্টার এন আর ভিশাক, ভারতের আন্তর্জাতিক মাস্টার অরণ্যক ঘোষ, কলাম্বিয়ার গ্র্যান্ড মাস্টার রিয়োজস ক্রিস্টিয়ান ক্যামিলো, ভারতের ভি প্রনভ, গ্র্যান্ড মাস্টার জি এ স্ট্যানি।

এ প্রতিযোগিতা থেকে তিন খেলোয়াড় একটি করে গ্র্যান্ড মাস্টারের নর্ম এবং একজন খেলোয়াড় একটি আন্তর্জাতিক মাস্টারের নর্ম অর্জন করেছেন। ইরানের আন্তর্জাতিক মাস্টার মৌসাভী সৈয়দ খলিল, ভারতের আন্তর্জাতিক মাস্টার মিত্রভা গুহ ও ভারতের আন্তর্জাতিক মাস্টার কোস্তভ চক্রবর্তী একটি করে গ্র্যান্ড মাস্টারের নর্ম এবং ভি প্রনভ একটি আন্তর্জাতিক মাস্টারের নর্ম অর্জন করেন।

গ্র্যান্ড মাস্টার নিয়াজ মোরশেদ বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের মধ্যে সর্বোচ্চ ছয় পয়েন্ট পেয়ে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের মধ্যে প্রথম হয়ে পান তিন হাজার মার্কিন ডলার। বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের মধ্যে দ্বিতীয় গ্র্যান্ড মাস্টার এনামুল হোসেন দুই হাজার মার্কিন ডলার, তৃতীয় গ্র্যান্ড মাস্টার জিয়াউর রহমান এক হাজার মার্কিন ডলার, চতুর্থ ক্যান্ডিডেট মাস্টার চঞ্চল কুমার ঘোষ, পঞ্চম আন্তর্জাতিক মাস্টার মোহাম্মদ ফাহাদ রহমান, ষষ্ঠ ফিদে মাস্টার মেহেদী হাসান পরাগ, সপ্তম ফিদে মাস্টার সেখ নাসির আহমেদ ও অষ্টম আন্তর্জাতিক মাস্টার আবু সুফিয়ান শাকিল প্রত্যেকে ৫০০ মার্কিন ডলার করে অর্থ পুরস্কার পান।

বাংলাদেশের নারী খেলোয়াড়দের মধ্যে হিলা ফিদে মাস্টার নোশিন আঞ্জুম ৫০০ মার্কিন ডলার, নুশরাত জাহান আলো ৩০০ মার্কিন ডলার এবং ওয়াদিফা আহমেদ তৃতীয় মহিলা পুরস্কার অর্জন করেন।

বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের মধ্যে অনূর্ধ্ব-২০ প্রথম পুরস্কার ৫০০ মার্কিন ডলার লাভ করেন ক্যান্ডিডেট মাস্টার নাইম হক, দ্বিতীয় ক্যান্ডিডেট মাস্টার তাহসিন তাজওয়ার জিয়া ৩০০ মার্কিন ডলার ও সাকলাইন মোস্তফা সাজিদ ১০০ মার্কিন ডলার অর্থ পুরস্কার লাভ করেন।

৯ রাউন্ড সুইস-লিগ পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত এ ইভেন্টে রেকর্ড সংখ্যক ১৮টি দেশের ৩২ জন গ্র্যান্ড মাস্টার, ১ জন মহিলা গ্র্যান্ড মাস্টার, ২০ জন আন্তর্জাতিক মাস্টার ও ৩ জন নারী আন্তর্জাতিক মাস্টারসহ মোট ১০২ জন খেলোয়াড় অংশ নেন। প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের ৫৫ হাজার ৩০০ মার্কিন ডলার অর্থ পুরস্কার দেওয়া হয়।

টিটি/এমআরএম