দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার চার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষর জাল করে পরীক্ষাকেন্দ্র পরিবর্তনের অভিযোগ উঠেছে বিরামপুর উপজেলার কাটলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও পরীক্ষাকেন্দ্রের সচিব মো. নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় ওইসব স্কুলের প্রধান শিক্ষকরা কেন্দ্র বাতিল করে আগের কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার অনুমতি চেয়ে শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ সরকারের একাধিক দপ্তরে আবেদন করেছেন।
বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো আবেদনে বলা হয়, বেশ কয়েক বছর ধরে হাকিমপুর উপজেলার পাউশগাড়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ, নওপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, নয়ানগর উচ্চ বিদ্যালয় ও ডাঙ্গাপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিজ উপজেলা হাকিমপুরের বাংলাহিলি পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে আসছে।
কিন্তু গত ১৮ অক্টোবর হাকিমপুরের এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র পরিবর্তন করে ওই চারটি বিদ্যালয়কে পার্শ্ববর্তী বিরামপুর উপজেলার কাটলা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিরামপুরের কাটলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিব মো. নজরুল ইসলাম কৌশলে নিজ স্বার্থসিদ্ধির জন্য স্বাক্ষর জাল করে কেন্দ্র পরিবর্তনের কাজ করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে পাউশগাড়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ সেলিম রেজা ও নয়ানগর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আতিয়ার রহমান বলেন, আমরা ওই চার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা হাকিমপুরের কেন্দ্র পরিবর্তনের জন্য কোথাও কোনো আবেদন করিনি। আমাদের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা নিজ উপজেলা ব্যতীত অন্য উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষা দিতে অনিচ্ছুক। কিন্তু কাটলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিব মো. নজরুল ইসলাম আমাদের স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে এই জালিয়াতি করেছেন। আমরা কাটলা কেন্দ্রের অধীনে থাকতে চাই না। আমরা হাকিমপুর কেন্দ্রে পরীক্ষা নিতে চাই।
নওপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম ও ডাঙ্গাপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা লায়লা আরজুমান বলেন, আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কাটলা উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষাকেন্দ্র অনেক দূরে এবং কেন্দ্রটি প্রত্যন্ত গ্রাম-অঞ্চলে। যোগাযোগ ব্যবস্থাও ভালো না। তাই শিক্ষার্থীরা যথাসময়ে কেন্দ্রে উপস্থিত হতে পারবে কি না তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে। শিক্ষার্থীরা হাকিমপুর কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে নিরাপদ বোধ করছে। তাই দূরত্বের বিষয় বিবেচনা করে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মতামতের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আগের হাকিমপুর কেন্দ্রে পরীক্ষা দেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।
বাংলাহিলি পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিব গোলাম মোস্তফা কামাল জানান, উপজেলায় ১৮টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে। পরীক্ষার্থীদের সংখ্যাও কম। আমরা চাই, চার বিদ্যালয়কে আমাদের কেন্দ্রে বহাল রাখা হোক।
হাকিমপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা কেন্দ্র সচিব মো. বোরহান উদ্দীন জানান, আমি শুনেছি, আমাদের কেন্দ্র থেকে চারটি বিদ্যালয়কে গোপনে বিরামপুরের কাটলা কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে। কিন্তু কীভাবে করা হলো তা আমি জানি না। আমার কোনো মতামত নেওয়া হয়নি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কাটলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিব মো. নজরুল ইসলাম বলেন, আমার কেন্দ্রের পাশে হওয়ায় দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড সুবিধা মনে করেছে বলেই হাকিমপুরের চারটি বিদ্যালয়কে আমার কেন্দ্রে অন্তর্ভুক্ত করেছে।
স্বাক্ষর জালের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোনো বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষর আমি জাল করিনি। এই অভিযোগ সত্য নয়। আমার কেন্দ্র থেকে তো দুইটি বিদ্যালয় বিরামপুর কেন্দ্রে স্থানান্তর করেছে। এটা শিক্ষাবোর্ডের সিদ্ধান্ত। তারা মনে করলে শিক্ষা বোর্ডে কথা বলে তাদের কেন্দ্রের চার বিদ্যালয়কে বহাল রাখতে পারে। আমার কোনো আপত্তি নেই।
এআরএ/এএসএম