রাজধানীর মোহাম্মদপুরের নবোদয় হাউজিং এলাকায় শুক্রবার (২৯ অক্টোবর) সকালে গার্মেন্টসকর্মী আয়শা সিদ্দিকাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠে এক ট্রাকচালকের বিরুদ্ধে। ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন সেকুল মিয়া নামের ওই ট্রাকচালককে আটক করে পুলিশে দেন। পুলিশ জানিয়েছে, সাবেক স্ত্রীকে হত্যা করতে গিয়ে ভুলক্রমে ওই গার্মেন্টসকর্মীকে কুপিয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন সেকুল।
এদিকে, মা আয়শা সিদ্দিকার নিহতের কথা জানে না মেয়ে আরিফা (৫)। প্রতিদিনের মতো মোবাইলে ভাত খেতে বলেনি বলে রাতে ভাতও খায়নি শিশু আরিফা। সে জানে তার মা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। মা ফিরবে সেই আশায় তাকিয়ে আছে সে।
স্থানীয় ব্রাক স্কুলের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী আরিফা বলে, বৃহস্পতিবার রাতে মা বলেছিল, পাঁচ মাস পরে ঈদের সময় বাড়ি আসবে। আমার জন্য সাইকেল ও চকলেট নিয়ে আসবে। কিন্তু মা নাকি আজই বাড়ি ফিরবে। মা অসুস্থ, মায়ের জন্য নামাজ পড়ে দোয়া করেছি। মা সুস্থ হয়ে যাবে। মা আসলে ভাত খাবো।
আয়শা সিদ্দিকার বাবা মালেক মাছুয়া (৫৫) বলেন, ছুটিতে আসার পর মেয়েকে ঢাকায় যেতে বারণ করেছিলাম। কিন্তু সে শুনেনি। সেদিন আমার কথা শুনলে হয়তো এমনটি হতো না।
আয়শা সিদ্দিকার মামি সুবর্ণা জানান, আয়শা সিদ্দিকা হাসাপাতালে ভর্তি হওয়ার পর থেকে তিন দফায় ৪৬ হাজার টাকা বিকাশের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে। হাসাপাতালে সম্ভবত আয়শার বড় বোন খালেদা প্রতারক চক্রের হাতে পড়েছিল। সরকারি হাসপাতালে একদিনে এত টাকা কেন খরচ হবে। শনিবার দুপুরেও ছয় হাজার টাকা পাঠানো হয়েছে।
বিরল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফখরুল ইসলাম নিহত গার্মেন্টসকর্মী আয়শা সিদ্দিকার পরিচয় নিশ্চিত করে বলেন, স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর আয়শা সিদ্দিকা তার বাবার বাড়িতে থাকতেন। এক বছর আগে তিনি ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকরি নেন। মরদেহটি রোববার সকালে এসে পৌঁছেছে।
এমদাদুল হক মিলন/ইউএইচ/জেআইএম