দেশজুড়ে

কুমিল্লার ঘটনায় ১২ জনের ব্যাংক স্টেটমেন্ট সিআইডির হাতে

কুমিল্লার নানুয়ার দিঘির পাড়ের অস্থায়ী পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন রাখার ঘটনায় আরও ১০-১২ জনের নামের তালিকা রয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) হাতে। এদের সবার ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও মোবাইল ব্যাংকিংসহ অর্থনৈতিক দেনদেনের কপিও সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব ডকুমেন্ট গুরুত্ব দিয়ে যাচাই-বাচাই করে দেখা হচ্ছে।

রোববার (৩১ অক্টোবর) সিআইডি কুমিল্লার পুলিশ সুপার (এসপি) খান মুহাম্মদ রেজওয়ান জাগো নিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, গত ১০ দিনে অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ অনেক তথ্য পাওয়া গেছে। এগুলো যাচাই-বাচাই করে দেখা হচ্ছে। তবে তদন্তের স্বার্থে সে সব তথ্য বলা যাচ্ছে না।

খান মুহাম্মদ রেজওয়ান আরও বলেন, ২৪ অক্টোবর রাতে পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে মামলাটি তদন্তের স্বার্থে সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়েছে। এরপর থেকে মামলাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছি আমরা।

প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে গ্রেফতার ইকবাল হোসেনসহ চারজনের সাতদিনের রিমান্ড শেষে শুক্রবার (২৯ অক্টোবর) বিকেল পৌনে ৩টায় কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফারহানা সুলতানার আদালতে হাজির করে সিআইডি। পুনরায় সাতদিনের রিমান্ড চাইলে আদালত পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

প্রধান অভিযুক্ত ইকবাল হোসেন ছাড়াও সিআইডি হেফাজতে রয়েছেন, ঘটনার দিন ৯৯৯ নম্বরে কল দেওয়া রেজাউল ইসলাম ইকরাম, দারোগা বাড়ি মাজার মসজিদের সহকারী খাদেম ফয়সাল ও হুমায়ুন কবির সানাউল্লাহ।

গত ২১ অক্টোবর রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত এলাকার থেকে ইকবালকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ওই রাতেই কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সোহান সরকারের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম কক্সবাজার থেকে কুমিল্লা পুলিশ লাইনে এনে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ কর। পরে ২৩ অক্টোবর দুপুরে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মিথিলা জাহান নিপার আদালতে ইকবালসহ চারজনকে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত তাদের প্রত্যেকের সাতদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এদিকে পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন পাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ১৩ অক্টোবর মন্দিরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় কোতোয়ালি মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হারুন অর রশিদ বাদী হয়ে মামলা করেন।

পূজামণ্ডপ ভাঙচুরের ঘটনায় কুমিল্লার বিভিন্ন থানায় এ খন পর্যন্ত ১১ মামলা হয়েছে। এরমধ্যে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় সাতটি, কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় দুটি এবং দাউদকান্দি ও দেবীদ্বার থানায় একটি করে মামলা হয়েছে। এসব মামলায় এখন পর্যন্ত পর্যন্ত ৯০ জনকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

জাহিদ পাটোয়ারী/আরএইচ/জিকেএস