দেশজুড়ে

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ছাত্রলীগের কমিটিতে বাদ পড়েনি কেউই

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য তাদের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে ৩৪৯ সদস্যের এই কমিটি প্রকাশ করেন। এরমধ্যে রোববার রাতে ২৯৫ জন ও সোমবার দুপুরে ৫৪ জনের নামের তালিকা প্রকাশ করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল হোসেন রুবেল ও সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন শোভন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৮ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগের সর্বশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনের ১০ দিন পর ১২ ফেব্রুয়ারি রবিউল হোসেন রুবেলকে সভাপতি ও শাহাদাৎ হোসেন শোভনকে সাধারণ সম্পাদক করে তৎকালীন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসাইন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এক বছরের জন্য ৭ সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এই কমিটি ঘোষণার ৩ বছর ৮ মাস পর ৩৪৯ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেওয়া হলো।

অনুমোদন দেওয়া পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ছাড়াও সহ-সভাপতি করা হয়েছে ৯০ জনকে, যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক ১১ জন, সাংগঠনিক সম্পাদক ১১ জন, অন্যান্য সম্পাদক ও উপ-সম্পাদক ১৩৬ জন, সহ-সম্পাদক ৫৯ জন ও সদস্য ৪০জনের নাম রয়েছে।

তবে এই কমিটি ঘোষণার পর থেকে জেলা জুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ১০ এর ‘ক’ ধারায় বলা হয়, জেলা কমিটি ১৫১ সদস্যের নির্বাহী সাংসদ গঠিত হবে। সেখানে জেলা ছাত্রলীগের ৩৪৯ জনের কমিটিকে ঘিরে সমালোচনা চলছে। এছাড়া বয়স্ক, অছাত্র, প্রবাসী, ব্যবসায়ী, বিবাহিত, জুতার কারখানার কারিগর, মাদক সেবন মামলার আসামি, স্বামী-স্ত্রী, সন্তানের বাবা এমনকি ছাত্রদল কর্মীর নামে কমিটিতে পদবি দিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে। অথচ ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রের ৫ এর ক উপধারা অনুযায়ী অনুর্ধ্ব ২৯ বছর বয়সী বাংলাদেশের যেকোনো স্বীকৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ছাত্রলীগের প্রাথমিক সদস্য হতে পারবেন। ৫ এর গ উপধারায় ৫ এর ক উপধারা অনুযায়ী বিবাহিত, ব্যবসায়ী ও চাকুরিতে নিয়োজিত কোনো শিক্ষার্থী ছাত্রলীগের কোনো কর্মকর্তা হতে পারবেন না।

খোঁজ নিয়ে আরও জানা যায়, পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সহ-সভাপতি পদ দেওয়া আমির হামজা ভূইয়া নাহিদ ২০০৬ সালে এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। সেই অনুযায়ী তার বয়স ৩০ বছরে ঊর্ধ্বে। সহ-সভাপতি মোবারক হোসেন (জিসান) জেলা শহরে মোবাইল ব্যবসায়ী ও এক কন্যা সন্তানের বাবা ছাড়াও এই কমিটিতে অন্তত অর্ধশতাধিক বিবাহিতকে রাখা হয়েছে। শাফি আলম নামের এক সহ-সভাপতি ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে জড়িত অভিযোগ করে ইতোমধ্যে তার বিএনপির মিছিলে হাতে ব্যানার নেওয়া একটি ছবি ভাইরাল হয়েছে।

এক সহ-সভাপতি ও যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক গত বছরের ১১ এপ্রিল সীমান্তবর্তী উপজেলা আখাউড়ায় মাদকসহ গ্রেফতার হন, সেই মামলার চার্জশিটেও তাদের নাম রয়েছে। এক দম্পতিকে যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও উপ-সম্পাদক পদে রাখা হয়েছে। সহ-সম্পাদক পদে জুতার ফেক্টরির কারিগর শয়ন আহমেদ শিখনের নামও রয়েছে। সহ-সভাপতির পদে এক ঠিকাদারের নামও রয়েছে। পূর্ণাঙ্গ কমিটির পদে থাকা অধিকাংশেরই ছাত্রত্ব নেই বলে জানা গেছে।

নতুন কমিটিতে সহ-সভাপতি পদ পাওয়া এক নেতা নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেন, দীর্ঘদিন পর প্রতীক্ষিত জেলা ছাত্রলীগের কমিটি দেওয়া হয়েছে। সেই কমিটি যে এত বাজে কমিটি হবে তা ভাবতে পারিনি। কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ে বড় কমিটি। যারা ওয়ার্ড কমিটিতে আসারও যোগ্য না, তাদেরও জেলা কমিটিতে পদ দেওয়া হয়েছে। এখন পদত্যাগও করতে পারছি না দলকে ভালোবাসি বলে।

সোমবার রাতে এসব অভিযোগের বিষয়ে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল হোসেন রুবেল ও সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন শোভনের বক্তব্য জানতে চাইলে তারা বলেন, পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশ হওয়ার পর কিছু অভিযোগ আমরা জানতে পেরেছি। তাদের বিষয়ে কেন্দ্রীয় কমিটিকে অবগত করবো। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।

আবুল হাসনাত/এফএ/জেআইএম