দেশজুড়ে

ছাত্রলীগ নেতাকে বহিষ্কার করে নিজেই অব্যাহতি পেলেন ছাত্রদল নেতা!

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার শেষ নেই। এরই মধ্যে দেখা দিয়েছে আরেক বিতর্ক। আর সেই বিতর্কে জড়িয়েছে ছাত্রদল। যার শুরু ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিকে ঘিরে।

সেখানে জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটির সদস্য আবির মোহাম্মদ সোহাগকে ছাত্রদল নেতা দাবি করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক সাইফুল ইসলাম। এ জন্য বুধবার (৩ নভেম্বর) আবিরকে বহিষ্কার করে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেন সাইফুল ইসলাম। ছাত্রদলের প্যাডে লেখা সেই বিজ্ঞপ্তিতে তিনি নিজেই সই করেন।

বিষয়টি নিয়ে জেলা জুড়ে ইতোমধ্যে হাস্যরসের সৃষ্টি হয়। এই ঘটনায় বুধবার রাতেই সাইফুল ইসলামকে দল থেকে অব্যাহতি দেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।

অব্যাহতির বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ফুজায়েল চৌধুরী বলেন, সংগঠনের কারো সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়া আজকে একটি বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন সাইফুল ইসলাম। যাতে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত অভিযোগে আবির মোহাম্মদ সোহাগ নামের এক ছেলেকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করেন দপ্তর সম্পাদক। তার এই হঠকারী সিদ্ধান্তে দল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সাইফুল ইসলামকে ছাত্রদল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

এদিকে সাইফুল ইসলাম বলেন, আবির ছাত্রলীগ করেন বলে আমাদের কাছে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ আসছিল। সম্মিলিত সিদ্ধান্তে তাকে বহিষ্কারের প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়েছি। এখন যদি সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক অস্বীকার করেন তাদের বিরুদ্ধে আমরা অনাস্থা দেব।

তবে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শেখ হাফিজ উল্লাহ বলেন, সম্প্রতি জেলা ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি হওয়ার পর থেকে কারো সঙ্গে কোনো প্রকার আলোচনা না করে এবং দলের নির্দেশনা ছাড়া সাইফুল ইসলাম নিজের ইচ্ছেমতো প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে যাচ্ছেন। যা সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের শামিল। আমাদের গঠনতন্ত্রের ৬ এর ২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তাকে সংগঠন থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এখন তাকে স্থায়ী বহিষ্কারের জন্যে চিঠি পাঠিয়েছি কেন্দ্রে।

এদিকে ওই ছাত্রলীগ নেতা আবির মোহাম্মদ সোহাগ বলেন, কেন্দ্র ও জেলা-উপজেলা কমিটির নেতাদের সইয়ে আমি ছাত্রলীগের বিভিন্ন পদে আসি। ছাত্রলীগ দিয়েই আমার রাজনীতি শুরু। বিএনপির কর্মকাণ্ডে কখনোই আমি ছিলাম না। এখন আমার বিরুদ্ধে একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে। আমার সঙ্গে আওয়ামী লীগের সবার সুসম্পর্কে ঈর্ষান্বিত হয়ে এটা করছে তারা। এমনকি বিভিন্ন ছবি এডিট করে ফেসবুকে দিচ্ছে।

এর আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগের কমিটিতে বিতর্কিতদের অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ এনে মঙ্গলবার (২ নভেম্বর) বিক্ষোভ করেন পদবঞ্ছিত নেতাকর্মীরা। একই সঙ্গে কমিটি থেকে বিতর্কিত নেতাদের নাম বাদ দিতে এক সপ্তাহ সময় দেন।

আবুল হাসনাত মো. রাফি/জেডএইচ/