দেশজুড়ে

মোটরসাইকেলে ভোট চাওয়ায় চুল কেটে দিলেন নৌকার কর্মীরা

বগুড়ার শেরপুরে কুসুম্বী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাওয়া এবং নির্বাচনী কার্যালয় পাহারা দেওয়ায় কবেজ উদ্দীন (৬২) নামে এক বৃদ্ধের মাথার চুল কেটে দিয়েছেন নৌকা প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা।

উপজেলার কেল্লা হঠাৎপাড়া গ্রামে সোমবার (০১ নভেম্বর) ঘটনাটি ঘটলেও নানা হুমকি-ধামকির কারণে প্রকাশ করেননি ভুক্তভোগী। তবে বুধবার (০৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ঘটনাটি স্থানীয়দের জানান তিনি।

ভুক্তভোগী কবেজ উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, তিনি স্থানীয় কেল্লা বাজারের একজন মুদি দোকানী। চা-পান ও সিগারেট বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। ছোটবেলা থেকেই মাজার ভক্ত। তাই মাথার চুল কাটেন না তিনি। এই কারণে চুল জটা ধরেছে।

আগামী ১১ নভেম্বর নির্বাচন উপলক্ষে তার দোকানের সামনে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহ আলম পান্নার মোটরসাইকেল মার্কার নির্বাচনী অফিস। তিনি রাতে সেই নির্বাচনী অফিস পাহারা দেন। আর দিনের বেলায় সবার কাছে ভোট চান।

কিন্তু সোমবার (০১ নভেম্বর) রাত একটার দিকে একই গ্রামের নৌকা মার্কার কর্মী সাইফুল ইসলাম, স্বপন মিয়া, রুবেল আহম্মেদ, ওবাইদুল ইসলামসহ কয়েকজন ব্যক্তি তাকে ঘুম থেকে ডেকে তোলেন। দোকান ঘরের বাইরে এনে মোটরসাইকেল মার্কার জন্য ভোট চাওয়া ও অফিস পাহারা দেওয়ার জন্য তাকে মারধর করেন। সেইসঙ্গে তার মাথার জটা চুল কেটে দেন। পরে মোটরসাইকেল মার্কার পোস্টার ছিঁড়ে দিয়ে চলে যান তারা।

তিনি আরও বলেন, যারা তাকে মারধর করেছে এবং মাথার চুল কেটে দিয়েছে তারা সবাই আওয়ামী লীগ প্রার্থী জুলফিকার আলী সঞ্জুর কর্মী-সমর্থক।

তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী জুলফিকার আলী সঞ্জু। তিনি বলেন, আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। কবেজ উদ্দিন পাগল টাইপের লোক। তার মাথার চুল কেউ কেটে দেয়নি। তবে তার মাথার চুল বেশ বড় এবং জটবাঁধা। তাই কেউ হয়তো চুলগুলো টেনে ছিঁড়ে ফেলেছে। তবে যারাই এই কাজটি করুক না কেন সেটি অন্যায়। এই ঘটনার সঙ্গে তার কোনো কর্মী-সমর্থক জড়িত নয়।

ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, আজকেই বিষয়টি জানার পর ঘটনাটি তদন্তে পুলিশ পাঠিয়েছিলাম। কবেজ উদ্দিন মাজার ভক্ত। ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এফএ/জেআইএম