দেশজুড়ে

বাড়তি ভাড়া আদায়, ‘পোষাতে’ না পেরে লঞ্চ বন্ধ

দেশে লিটারপ্রতি ১৫ টাকা বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম। এর প্রভাব পড়েছে যানবাহনেও। ভাড়া বাড়ানোর দাবিতে এরই মধ্যে মালিকরা গণপরিবহন বন্ধ রেখেছেন। লঞ্চেও একই অবস্থা। কোনো রকমের নোটিশ ছাড়াই দুইদিন ধরে ১৫ টাকা করে বেশি ভাড়া আদায় করছিল লঞ্চগুলো। শেষ পর্যন্ত বন্ধই ঘোষণা করা হলো লঞ্চ চলাচল।

শনিবার (৬ নভেম্বর) বিকেলে লঞ্চ মালিকরা এ ঘোষণা দেন। তাই সারাদেশের মতো নারায়ণগঞ্জ থেকে রোববার (৭ নভেম্বর) লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকবে। মালিকরা বলছেন, বাড়তি ভাড়া নিয়েও তারা পোষাতে পারছেন না। তাই লঞ্চ চলাচল বন্ধ রেখেছেন।

লঞ্চ শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জে তিনটি রুটে লঞ্চ চলাচল করে। রুটগুলো হচ্ছে- নারায়ণগঞ্জ-মুন্সিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ-চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জ-মতলব-মাছুয়াখালী।

এই তিনটি রুটে ছোটবড় ৫৯টি লঞ্চে প্রতিদিন অর্ধ লক্ষাধিক লোক যাতায়াত করে। তবে দুদিন ধরে যাত্রী কম। যাত্রীপ্রতি ১৫ টাকা বেশি ভাড়া আদায় করেও লোকসান গুনছেন লঞ্চ মালিকরা।

নারায়ণগঞ্জ থেকে মতলগামী হাসিব লঞ্চের কেরানি সোলাইমান জাগো নিউজকে বলেন, আগে আমাদের একবার আসা-যাওয়ায় দুই হাজার টাকার তেল খরচ হতো। এখন তেলের দাম বাড়ায় ছয় হাজার ২০০ টাকার তেল লাগে। এই বাড়তি টাকা কোথায় পাবো? যাত্রীদের কাছে বেশি ভাড়া চাইলে তারা ঝগড়া করে। আমাদের কাছে ভাড়া বাড়ানোর প্রমাণ চায়।

তিনি আরও বলেন, আমরা তো সরকারের পক্ষ থেকে কোনো নির্দেশনা দেখাতে পারি না। তাই সরকারি নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত লঞ্চ বন্ধ থাকবে। এখানে কিছু করার নেই।

নারায়ণগঞ্জ থেকে চাঁদপুরগামী একটি লঞ্চের স্টাফ রাসেল বলেন, বাস বন্ধ থাকায় গত দুইদিন যাত্রী সংখ্যা কম। ১৫ টাকা করে বেশি ভাড়া নিয়েও পোষাতে পারছে না মালিকপক্ষ। তাই রোববার থেকে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

আয়েশা আক্তার ছোঁয়া নামে এক কলেজছাত্রী জানান, তিনি প্রায়ই চাঁদপুর থেকে নারায়ণগঞ্জ আসেন। দুইদিন ধরে তাকে ১৫ টাকা বেশি ভাড়া দিয়ে আসতে হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ, যা আগে তিনি জানতেন না।

এদিকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল সংস্থার জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান বদিউজ্জামান বাদল জাগো নিউজকে বলেন, আমরা ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিলাম। সরকার এতে সাড়া দেয়নি। কথা ছিল দুপুরের মধ্যে আমাদের ডেকে নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কিন্তু সেটা হয়নি। মালিকরা বলছেন, লস দিয়ে তারা আর লঞ্চ চালাবেন না। তাই সদরঘাট টার্মিনাল থেকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে সব লঞ্চ।

জেডএইচ/এএসএম