গণপরিবহন ও দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধের কারণে আটকেপড়া পর্যটকদের পুলিশি ব্যবস্থাপনায় চট্টগ্রাম পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করেছে কক্সবাজার জেলা পুলিশ।
শনিবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় পর্যটক ভর্তি পুলিশের প্রথম বাসটি চট্টগ্রামের উদ্দেশে কক্সবাজার পুলিশ লাইন্স ত্যাগ করে। বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজারের পুলিশ সুপার (ভারপ্রাপ্ত) মো. রফিকুল ইসলাম।
তিনি বলেন, পর্যটন শহর কক্সবাজারে বিভিন্ন জেলা থেকে আগত যে সব পর্যটক বাস ধর্মঘটের কারণে নিজ গন্তব্যে ফিরে যেতে পারছেন না, তাদের পুলিশের নিজস্ব পরিবহনে চট্টগ্রাম পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফিরে যেতে আগ্রহীদের জেলা পুলিশ লাইন্সে যেতে বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়ে জেলা পুলিশের পেজে দেওয়া হয়। তা দেখে যারা পুলিশ লাইন্স এসেছেন তাদের গাড়িতে তুলে প্রথম বাসটি সন্ধ্যা ৭টায় যাত্রা শুরু করে।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে হঠাৎ গণপরিবহন ও দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ হওয়ায় কক্সবাজার বেড়াতে গিয়ে শুক্র ও শনিবার ফিরে যাওয়ার সিডিউল থাকা প্রায় অর্ধলাখ পর্যটক আটকা পড়েন। যাদের বিশেষ কাজ আছে, তাদের অনেকে অতিরিক্ত ভাড়ায় উড়োজাহাজে করে কক্সবাজার ত্যাগ করেন। কিন্তু যাদের সেই সামর্থ্য নেই তারা ছোট যানবাহনে কক্সবাজার ছাড়ার চেষ্টা চালান।
তবে অন্য সময়ের চেয়ে ভাড়া দু-তিনগুণ হওয়ায় শনিবার দুপুর পর্যন্ত কক্সবাজার ছাড়তে করতে পারেননি আটকেপড়া অনেকে। তাদের বাড়ি ফেরার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেয় জেলা পুলিশ।
কক্সবাজার তাজ করপোরেশন অ্যান্ড ট্রাভেলস সেন্টারের মালিক জানে আলম বলেন, কক্সবাজার থেকে বিমানের ফিরতি টিকিটের দাম হঠাৎ বেড়েছে। অন্য সময় ৩ হাজার ৮০০ টাকা থেকে ৫ হাজার টাকায় যেতে পারলেও শুক্র ও শনিবার সর্বনিম্ন ৭ হাজার থেকে ১৩ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। যে কারণে অনেক পর্যটক টিকিট করতে এসেও সাধ্যের ভেতর না হওয়ায় ফিরে গেছেন।
ফেডারেশন অব ট্যুরিজম ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সিকদার বলেন, হঠাৎ দূরপাল্লার বাস বন্ধ হওয়ায় পর্যটকরা চরম বেকায়দায় পড়েছেন। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরাও।
কক্সবাজার বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ বলেন, গণপরিবহন বন্ধের বিষয়টি জাতীয় ইস্যু। এ ব্যাপারে সরকারের দ্রুত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
সায়ীদ আলমগীর/এসজে/এএসএম